সিলেট ব্যুরো : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সড়কের ওপর রামদা দিয়ে কুপিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন মধু মিয়া (৫৮) নামে এক কৃষককে হত্যা করেছে। জমি –জমার সীমানা নির্ধারন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মধু মিয়ার স্ত্রী,সন্তান সহোদর ভাই সহ আরো ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।বৃহস্পতিবার (০৬ আগষ্ট) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মধু মিয়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
তার মৃত্যুর বিষয়টি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নিহতের স্ত্রী নিশ্চিত করেন।
নিহত মধু মিয়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের প্রয়াত হরমুজ আলীর ছেলে।
শুক্রবার (০৭ আগষ্ট) সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অবস্থানরত নিহত মধু মিয়ার স্ত্রী সাফিয়া বেগম জানান, গেল রবিবার( ২৬ জুলাই) সকালে তাহিরপুরের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের মৃত তমিজ আলীর ছেলে (মধু মিয়ার আপন চাচাত ভাই) আব্দুল হাইয়ের নেতুত্বে তার স্ত্রী ,তাদের ৬ ছেলে, মেয়ে, ছেলের স্ত্রী সহ ১০ জন পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে বাদাঘাট-সুন্দর পাহাড়ি সড়কের ওপর মধু মিয়াকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রক্ষার্থ করে।
এ ঘটনায় চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়কে আসার পর আব্দুল হাই ও তার পরিবারের সদস্যরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে মধুর স্ত্রী সাফিয়া বেগম, ছেলে শের আলী, মধুর ভাই আবু ছালাম, কাশেম, তার ছেলে বিপ্লবকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।ঘটনার পর আহতদের ৪ জনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও মধু ও তার ভাই কাশেমের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গেল ২৬ জুলাই বিকেলে।
এ ঘটনায় উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের ভিকটিম আবু ছালাম গেল সোমবার (২৭ জুলাই) বাদী হয়ে একই গ্রামের আব্দুল হাইকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৯জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা সহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরদিন মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) তাহিরপুর থানায় মামলাটি রেকর্ড ভুক্ত করা হলেও অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান থানার ওসি ফারুক আহম্মেদ
উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের নিহত মধুর প্রতিবেশী ও নিকটাত্বীয় হুমায়ুন জানান,সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের সামনে থাকা হাওরে ৫৫ শতক দুই ফসলী জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সুত্রপাত।এ নিয়ে আব্দুল হাই ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর থানা-আদালতে সাধারন ডায়েরি (জিডি),একাধিক মামলা থাকার পরও সালিসীদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি আব্দুল হাই এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার সকালে উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত আব্দুল হাই’র মোবাইল ফোনে বক্তব্য জানতে কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার এবি এম জাকির হোসেন পিপিএম বলেন, থানায় রেকর্ডকৃত পুর্বের মামলার এজাহারটি হত্যা মামলার ধারা সম্পুক্ত করা হবে। এছাড়াও ওই হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার (এসপি)।
Leave a Reply