সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

জুলাই অভ্যুত্থানে চোখ হারানো চার যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট : রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫
  • ২১০ পঠিত

দিগন্ত ডেক্স : রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি চার যুবক বিষপান করেছেন। তাঁরা সবাই জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশের ছররা গুলিতে এক চোখ হারিয়েছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মিডিয়া হেড মো. জাহিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিষপানের সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। তবে তাঁরা এক ধরনের মানসিক ট্রমায় ভুগছিলেন।’

বিষপানকারী ব্যক্তিরা হলেন শিমুল, মারুফ, সাগর ও আখতার হোসেন (আবু তাহের)। তাঁদের একজন সিঙ্গাপুরে চিকিত্সা শেষে দেশে ফিরে গতকাল এই হাসপাতালে ভর্তি হন।

ঘটনার পরপরই তাঁদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিত্সকরা প্রাথমিক চিকিত্সা শেষে জানান, তাঁরা শঙ্কামুক্ত।

মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘গত শনিবার কোনো এক ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি আহত যোদ্ধাদের কয়েকজন একজন মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ ও কয়েকজন চিকিত্সককে আটকে রেখেছিলেন। আমরা তাঁদের অনুরোধ জানিয়েছিলাম, এ ধরনের কোনো কিছু যেন না হয়।

হাসপাতালে যদি কোনো সমস্যা থাকে, সে বিষয় নিয়ে আমরা আগামীকাল এসে পরিচালকের সঙ্গে কথা বলব।’

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে আজ দুপুরে আমিসহ জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের নতুন সিইও কর্নেল (অব.) কামাল আকবর হাসপাতালে যাই এবং পরিচালকের সঙ্গে সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলি। একই সঙ্গে নতুন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করি। সভা চলাকালে পরিচালকের কক্ষের বাইরে আওয়াজ শুনে গিয়ে দেখি, চারজন বিষপান করে। তাত্ক্ষণিকভাবে আমরা জানতে পারি, তাঁরা একধরনের মানসিক ট্রমায় ভুগছিলেন।

এর বাইরে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি।’

হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, তেলাপোকা মারার তরল বিষ পান করেন তাঁরা চারজন। বিষের পরিমাণ খুব বেশি না হওয়ায় কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি তাঁদের। প্রাথমিক চিকিত্সায় তাঁরা সেরে উঠবেন। 

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন সিইও কামাল আকবরের সঙ্গে আমার পূর্ব নির্ধারিত সভা ছিল। সেখানে আলোচনা হয় আহতদের পুনর্বাসন নিয়েই। কিন্তু এ সময়ে ১৫-২০ জন্য এসে রুমে প্রবেশ করে। তখন সিইও অনুরোধ জানান, “তোমরা বাইরে অপেক্ষা করো।” এরপর বাইরে গিয়েই চারজন বিষপান করেন। আহতদের দাবি ছিল, পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য কার্ড, গেজেট ইত্যাদি।’

ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ৫৫ জন রোগী চিকিত্সা নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৬ জন সুস্থ আছেন। তাদের আর হাসপাতালে ভর্তি থাকার প্রয়োজন নেই। ৭-৮ জনের চিকিত্সা প্রয়োজন, তাদের কিছু সমস্যা রয়েছে। 

পরিচালক বলেন, যারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই মানসিকভাবে ভালো নেই। তারা আশঙ্কা করছেন যে, যদি হাসপাতাল থেকে চলে যান, তাহলে তারা পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সমস্যা এবং সংকটে পড়তে পারেন। তাই তারা হাসপাতাল ছাড়তে চাচ্ছেন না।

হাসপাতালের চিকিত্সকরা জানান, বিষপানকারী রোগীগুলো এই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন না। দুদিন আগে হাসপাতালে এসেছেন নতুন করে। এর আগে তারা এখানে চিকিত্সাধীন ছিল ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিল। দু’দিন আগে তারা নিজেরাই এসে ভর্তি হয়েছেন রাত ৯-১০টার দিকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে চোখ হারানো আহত ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ৯ মাসেও তাঁদের উন্নত চিকিত্সা বা পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং প্রতিশ্রুতি দিয়ে নানা বাহানা করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বললেও তা বাস্তবে ঘটেনি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023 digantabangla24.com