সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

প্রতারণায় নিঃস্ব আলজেরিয়া ফেরত ৩২ বাংলাদেশি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট : শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ১৭৩ পঠিত

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ থেকে কর্মসংস্থানের আশায় বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা বাড়লেও প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে অসহায় অবস্থায় ফিরে আসছেন। সম্প্রতি একটি এজেন্সির প্রলোভনে আলজেরিয়ায় গিয়ে ৩২ জন শ্রমিক বেতন না পেয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন।

কাজের উদ্দেশে গত বছরের ৬ জুন আলজেরিয়া যান ৪৩ জন শ্রমিক। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড ভিশন (আরএল-২১০০) নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের সেখানে পাঠায়। প্রতারণার শিকার হয়ে সাড়ে সাত মাসের ভোগান্তি শেষে শূন্য হাতে এসব শ্রমিক গত ২১ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। পরদিন তারা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রবাস সাপোর্ট সেন্টারে গিয়ে অভিযোগ করেন। আমাদের কাজের চুক্তি দুই বছর। কিন্তু ওখানে গিয়ে একমাস পাঁচদিন কাজ করার পর বলা হয়, তোমাদের দেশে পাঠিয়ে দেব।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী কর্মীরা জাগো নিউজকে বলেন, তাদের ভিসা হয় নির্মাণ কাজে। এজন্য তিন থেকে চার লাখ টাকার মতো নেয় রিক্রুটিং এজেন্সি ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড ভিশন (আরএল- ২১০০)। এরপর তারা ৪৩ জন কর্মী আলজেরিয়ার আলমিনহা কোম্পানিতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যান। তাদের কাজের চুক্তি দুই বছর। কিন্তু সেখানে গিয়ে একমাস পাঁচদিন কাজ করার পর বলা হয়, ‘তোমাদের দেশে পাঠিয়ে দেব।’ এরপর দেশে যাওয়ার ফিরতি টিকিট করে আলমিনহা কোম্পানি। হঠাৎ এমন খবরে তারা সবাই হতভম্ব হয়ে পড়েন। ফোন করে বিষয়টি ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড ভিশন এজেন্সিকে জানান। এজেন্সি থেকে তাদের বলা হয়, ‘তোমরা কাজ করতে থাক, কোনো সমস্যা হবে না।’

ভুক্তভোগী কর্মীরা বলেন, ‘এরপর নানান কাহিনি করে ওই কোম্পানি থেকে নিয়ে চাইনিজ ওয়ান প্রায়ান্ট নামের একটি কোম্পানিতে কাজ দেওয়া হয়। সেখানে কাজ করতে হয় প্রায় ১৪ ঘণ্টা। অসহনীয় কষ্টে কাজ করতাম। কোনো বেতনও পাইনি। বেতন চাইলে চাইনিজ কোম্পানির লোক বলতো তারা নাকি এজেন্সির কাছে আমাদের বেতন দিয়ে দিতো। কিন্তু এজেন্সি আমাদের কোনো টাকা দেয়নি।’

চাইনিজ কোম্পানিতে গিয়েও ভার্চুয়াল এজেন্সি কর্মীদের ভিসার ব্যবস্থা করেনি। এরপর হঠাৎ একদিন চাইনিজ ইনচার্জ বলেন, ‘আপনাদের এজেন্ট ভিসা না করে দিলে এখানে কাজ করতে পারবেন না। দুদিনের মধ্যে বের হয়ে যেতে হবে।’ এজেন্সি ভিসার ব্যবস্থা করতে না পেরে সে দেশে থাকা তার লোকের মাধ্যমে ৪৩ বাংলাদেশি কর্মীকে একটি ঘরে একপ্রকার বন্দি করে রাখেন।

প্রতারণার শিকার কর্মীরা বলেন, দুদিন যাওয়ার পর এজেন্সি আমাদের সবাইকে বলে, তোমাদের জন্য একটি ভালো ভারতীয় কোম্পানি পেয়েছি, ভিসা লাগিয়ে দেবে। এই কথা বলে, আমাদের কাছে ২০০ ইউরো করে চায়। এরপর সেখানে দুই মাস ১৫ দিনের মাথায় এক ভারতীয় এসে কাজে নিয়ে যান। এতে কিছু লোক কাজ করার সুযোগ পান। কিছু লোক কাজ না করতে পেরে বাইরে চলে যান। কাজ করতে গিয়ে আমাদের সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক ব্যক্তি মারা যান। একপর্যায়ে সেখানে কাজ ছেড়ে দিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) শরণাপন্ন হই। তারা কিছুদিন রেখে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এখনো ১০ জনের মতো দেশে আসেনি। আইওএমের মাধ্যমে তারাও চলে আসবে।

‘আমাদের সঙ্গে যাওয়া আব্দুল্লাহ আল মামুন কাজ করতে গিয়ে মারা যান। তাকে এজেন্সি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেও দেয়নি।’প্রতারণার শিকার ঠাকুরগাঁওয়ের মো. জুয়েল জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের ওপর হয়রানির শেষ নেই। সেখানে আট মাসে অনেক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে। ভার্চুয়াল এজেন্সির মালিক আমিনুল আমাদের আলজেরিয়ায় নিয়ে একবার একেক জায়গায় পাঠিয়েছেন। কিন্তু কোথাও আমাদের বৈধ হওয়ার জন্য ভিসা লাগাতে পারেননি। সেখানে তার ভারতীয় ও বাংলাদেশি এজেন্টও আছে। একবার চাইনিজ কোম্পানি, আরেকবার ভারতীয় কোম্পানি। নানা জায়গায় পাঠিয়ে কোথাও কাজ করে টাকা পাইনি, ভিসাও পাইনি।’তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যাওয়া আব্দুল্লাহ আল মামুন সেখানে কাজ করতে গিয়ে মারা যান। তার জন্য এজেন্সি দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা দেবে জানালেও দেয়নি। বরং এজেন্সি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।’

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৯ মাসে বিভিন্ন দেশে গিয়ে ছয় মাসের মধ্যেই আবার দেশে ফিরেছেন এমন কর্মীর সংখ্যা এক হাজার ৯২৬ জন। এর মধ্যে সৌদি আরব ফেরত ৭৭৬ জন, মালয়েশিয়া ২২১ জন, ওমান ২১৬ জন, দুবাই ১২২ জন, রোমানিয়া ৮৭ জন, কাতার ১২২ জন, আরব আমিরাত ৬৭ জন, কুয়েত ৭৪ জন, কিরগিজস্তান ৫২ জন, উজবেকিস্তান ৪৩ জন, কাজাখস্তান ২৮ জন ও সিঙ্গাপুর ফেরত ৮৭ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশ কর্মী প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আউট পাস নিয়ে দেশে ফেরত এসেছেন ৪০ হাজার ৩০৫ কর্মী। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কাজ না পাওয়া, চিকিৎসাবঞ্চিত ও প্রতারণার শিকার হয়ে বিভিন্ন দেশে কর্মী হিসেবে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে দেশে ফিরেছেন এক হাজার ৯২৬ জন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023 digantabangla24.com