স্টাফ রিপোর্টার : নেত্রকোনার মদনে ইমাম ও উলামাদের দাবির প্রেক্ষিতে বাউল গান পন্ড করে দিয়েছেন উপজেলা পুলিশ প্রশানস, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার রাতে উপজেলার হাসনপুর বাজারে স্থানীয় বেশ কয়েকজন যুবক এ গানের আয়োজন করে।
এলাকাবাসী ও আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, ২১ মে ইমাম ও উলামা পরিষদ এর পক্ষে গান বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি নিয়ে ইমাম উলামা পরিষদ ও আয়োজক কমিটির সাথে দফায় দফায় বৈঠক বসে। এ নিয়ে দু’ পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। শুক্রবার জুম্মার নামাজ পর বিষয়টি নিয়ে হাসনপুর জামে মসজিদে ইমাম, উলামা পরিষদ ও ফতেপুের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সদস্যবৃন্দ ও এলাকাবাসীর বৈঠক বসে৷ বৈঠকে ইউপি চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সফি তাদের দাবির কথা শোনেন। পরবর্তীতে সকলের সিন্ধান্ত মোতাবেক বাউল গানের আসর বন্ধ করে দেন।
বিষয়টি নিয়ে ফতেপুের উলামা পরিষদ শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি সুলাইমান আহমদ জানান, বাউল গান বন্ধের জন্য এর আগে আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করি। আজ শুক্রবার এ নিয়ে মসজিদে চেয়ারম্যানসহ সকল স্থানীয় ব্যাক্তিদের নিয়ে বৈঠক বসে। বৈঠকে আশ্বস্ত করেন গান হবে না, গান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমরা পুলিশ প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ সকলকের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আয়োজন কমিটির কয়েকজন জানান, আমরা কয়েকদিন আগে থেকেই বাউল গান আয়োজন করার প্রস্তুতি নেই। প্রস্তুতির শুরুতে কোন বাধা ছিল না। গত দুদিন থেকে তারা বাধা দিচ্ছে। তবে এ আয়োজন করতে আমাদের প্রায় ২ লাখ টাকারমতো খরচ হয়েছে এই টাকা এখন কোথায় পাব? কে দিবে এই টাকা। এ নিয়ে তারা ক্ষোভও প্রকাশ করে।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সফি জানান, ইমাম ও আলেমদের সুপারিশের প্রেক্ষিতে গান বন্ধ করা হয়েছে। তবে গানের চেয়ে আরও গুরুতর হল জুয়া,মাদক। আমরা চাই উনারাও যেন এ বিষয়েও প্রতিবাদ করেন।
মদন থানার ওসি তদন্ত অসীম কুমার জানান, আমরা শান্তি শৃঙ্খলার পক্ষে। হাসনপুর বাজারে বাউল গান নিয়ে একটি ঝামেলা চলছিল। এখন শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়ে গেছে।
Leave a Reply