শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপুরে কোরবানির হাটে ক্রেতা সংকট, দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ৯০ পঠিত

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটগুলোতে ততই গবাদি পশুর আমদানি বাড়ছে। তবে কৃতিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু ও ভারতীয় গরুর প্রভাব না থাকায় ছোট জাতের দেশি গরুর সরবরাহ বেশি। পাশাপাশি সল্প দামে দেশি গরু কিনতে ও বিক্রি করতে দেখা গেছে হাটে। তবে হাটে ক্রেতা কম থাকায় দুঃশ্চিন্তায় আছেন বিক্রেতারা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে খামারিদের পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাও। তাদের প্রত্যাশা, এবার কুরবানির বাজারে গরুর ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাবে। অন্যদিকে পশুর হাটে ক্রেতা কম থাকায় ছোট বড় খামারিরা দুঃশ্চিন্তাতেও রয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এসব খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। হাটে ভারতীয় গরু না থাকায় কিছুটা দুঃশ্চিন্তা মুক্ত বিক্রেতারা। তবে হাটে ক্রেতা কম থাকায় এবার লোকসান গুনতে হতে পারে। তাই খামারিদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

এনিয়ে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরের এমকেসিএম স্কুল মাঠ, দুর্গাপুর ইউনিয়নের দেবথৈইল খেলার মাঠ ও চন্ডিগড় ইউনিয়নের চন্ডিগড় বাজার মাঠে পশুর হাটে গবাদি পশু আসতে শুরু করে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাটে ছোট বড় খামার থেকে গবাদি পশু নিয়ে আসছেন খামারিরা। তবে এখনও কেনা-বেচার হিড়িক পড়েনি, ক্রেতার তুলনায় পশু বেশি লক্ষণীয়। অনেকেই হাটে এসেছেন, পছন্দের পশুটি ঘুরে ঘুরে দেখছেন আর দর দাম হাকছেন। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাবে বলে জানাচ্ছেন।

সদর ইউনিয়নের চকলেঙ্গুরা এলাকার আজিজুল হকের খামারে রয়েছে ১৩টি গরু। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের দুই সহযোগী। খামারের কর্মী রাশেদ মিয়া বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুগুলোর পেছনেই সময় দিচ্ছি। খাবার খাওয়ানো, গোসল করানোসহ সব ধরনের যত্ন নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, এবার গরুগুলোর ভালো দাম পাবো।

বিক্রেতা ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘গুজিরকোনা পশুর হাটে ক্রেতার থেকে গরুর বেশি। এখনও আমি লসে আছি ৩টি গরু এখনো বিক্রি করতে পারিনি। কিছুদিন আগে হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে অত্র এলাকায় পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইচ্ছা থাকলেও পশু কিনতে পারছেনা অনেকেই। শেষ সময় বেচা বিক্রি ভালো হবে এমন প্রত্যাশা করছি।

গরু ক্রেতা তানভির হোসেন তাইফ বলেন, বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে পশু দেখছি, আর দর-দামও করছি। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাবো। তবে কোরবানির পশুর হাটে বড়ো গরুর চেয়ে এবার মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি লক্ষ করছি। পশুর হাটে গরু উঠেছে অনেক, কিন্ত ক্রেতা তুলনামুলক কম।

দুর্গাপুর উপজেলায় কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৭ শতাধিক ছোট বড় খামারে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার গরু এবং প্রায় ৪ হাজার ছাগল প্রস্তুত করা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এসব পশুর একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও সরবরাহ করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

এবিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অমিত দত্ত বলেন, খামারিদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যেন কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়। স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বাজারে যেন ভোক্তারা নিরাপদ পশু পান, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হবে। ইতোমধ্যে পশু জবাই ও চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণ বিষয়ে উপজেলার সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023 digantabangla24.com