কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি বিদ্যালয়ে চলতি বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যা অভিভাবকদের চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছর থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির প্রতি শাখায় ৫৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না বলে জানানো হয় এক সরকারি নির্দেশনায়। শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমিয়ে আনায় সন্তানদের কোথায় ভর্তি করাবেন , তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক অভিভাবক।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা সদরে অবস্থিত (বালকদের জন্য) একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ৫৫-তে নেমে আসায় গতবারের চেয়ে এবার শাখা প্রতি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমে গেছে প্রায় অর্ধেক। এতে উপজেলা সদরের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি ইচ্ছুক প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
এই নির্দেশনার পর ভর্তি সংখ্যা কমে যাওয়ায় সন্তানদের ভর্তি নিশ্চিতে বিভিন্ন পর্যায়ে অভিভাবকদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। অনেক অভিভাবক ভর্তির আবেদনে সুপারিশ নিতে সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মোহাম্মদ এমদাদুর রহমান জানান, বিগত বছরগুলোতে এক শাখায় এ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১০০ থেকে ১২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়েছে। নতুন নীতিমালায় প্রতি শাখায় ভর্তির সংখ্যা ৫৫ জনে নামিয়ে আনার সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিষ্ঠান তা বাস্তবায়নে বাধ্য। তারা ৫৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারছেন না। এর আগের বছর গুলোতে লটারির বাইরে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকেও ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়েছে। এবার সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।
কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের কলমাকান্দা গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক অয়ন ভাট এর অভিভাবক নিউটন চন্দ্র ভাট বলেন, বালকদের জন্য সদরে আর কোনো বিদ্যালয় না থাকায় বাধ্য হয়েই কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাত্রদের ভর্তি করে নিতেন। এ বছর হঠাৎ নতুন নীতিমালার কারণে লটারির বাইরে কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হচ্ছে না। আমি একজন ক্ষুদ্র পান ব্যবসায়ী। ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে যে খরচ লাগে। আমার পরিবারের মতো সন্তানদের পড়াশুনা চালানো অসম্ভব। আমরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
কলমাকান্দা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম শাজাহান কবীর বলেন, এ বছর অত্র বিদ্যালয় হতে ১১২ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্ত আমাদের পাশেই কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে মোট ৫৫ জন শিক্ষার্থী। যার ফলে সদর ইউনিয়নের থাকা আশে পাশের ২১টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভর্তির কোন সুযোগ হচ্চে না। জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি আসনের সংখ্যা বাড়ানো দরকার।
সাংবাদিক কাজল তালুকদার বলেন, উপজেলাটি দুর্গম পাহাড়ি ও হাওর বাওর বেষ্টিত একটি দরিদ্র জনবল এলাকা। সদরে অবস্থিত ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। মেয়েরা ভর্তি লটারিতে নাম না আসলে তারা সদরের কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি হতে পারে। কিন্তু ছেলেরা কোথায় যাবে ? সদরে আরেকটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে সরকারের নীতিমালা করে দেওয়ার কারণে ৫৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পত্র প্রেরণ করেছি।
Leave a Reply