দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : আমার তিনডা সন্তান, স্বামী নাই। প্রতিবন্ধী এক কিশোরী মাইয়ারে বাঁইন্ধা রাইখ্যা মাইষ্যের বাড়িতে বাড়িতে কাম করে অনেক কষ্টে এবড় মাইয়্যারে লেহাপড়া করাইছি। ভাঙাচোরা (ঝুপড়ি) ঘরে থাহি, এই কারনে বিয়ার ঘর আইয়া যায় গা। অহন ভালা একটা ঘর অইছে, বিয়া দিতে হারবাম আমার বড় মাইডয়ারে। কায়সার কামাল স্যার আমারে এই ঘরডা দিছে, আমি উনার লাগি মেলা দোয়া করি।
অশ্রুভেজা কন্ঠে এই কথাগুলো বলছিলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল চন্ডিগড় গ্রামের বাসিন্দা, অসহায় নারী জরিনা খাতুন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে নতুন ঘর পেয়ে খুশি তিনি। তার জীবনের দুর্দশার কথা শুনে ব্যক্তিগত অর্থায়নে নতুন ঘর উপহার দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা – ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
জরিনা খাতুন জানান, বসতঘরটি ছিল ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলেই তার সকল ঘর জুরেই পানি পড়ত। সেই ঘরেই প্রতিবন্ধী সন্তানসহ অন্যদের নিয়ে ভিজেই দিন-রাত পার করতে হতো। এমনকি বড় মেয়ের বিয়ের কথা আসার পরে ভাঙ্গা ঘরের জন্য বিয়ে ভেঙ্গে যায়। আমার কষ্টের জীবনযাপনের একটি ভিডিও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে আসে। পরবর্তিতে তিনি নিজ অর্থায়নে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেন। এখন থেকে এই নতুন ঘরেই সন্তানদের নিয়ে বসবাস করবো আমি।
আবেগাপ্লুত হয়ে জরিনা খাতুন আরো বলেন, আগে ভাঙা ঘর আছিন, অহন আর বিয়ার ঘর আইলে ভাংতো না। সারা রাইত মেঘে ভিজছি, ছিড়া কম্বল চালে দিয়ে পানি ফিরাইছি, আর মনে মনে আল্লারে ডাকছি, আল্লাহ আমার কথা হুনছে, আমি অনেক খুশি। কায়সার সাইবের লাগি আল্লাহর কাছে দোয়া করি।
এ নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ্ খান বলেন, অসহায় জরিনা খাতুনকে নিজ অর্থায়নে ঘর করে দিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে। এছাড়া তিনি ব্যাক্তিগত অর্থায়নে অসচ্ছল, হতদরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, শিক্ষাক্ষেত্রে আর্থিক অনুদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, অসুস্থ ও দুর্ঘটনাগ্রস্থ্য মানুষের চিকিৎসা, দৃষ্টিহীনদের চিকিৎসা করানো, আশ্রয়হীনদের জন্য ঘর বিতরণ করে সাধারণ মানুষের যে আস্থা অর্জন করেছেন তা আর কোন সংসদ সদস্যই করতে পারবেনা।
জরিনা খাতুনের নতুন ঘর তিনি নিজেই উদ্বোধন করেন। এ সময় মসজিদের ঈমাম, কৃষক ও গ্রামবাসীগণ উপস্থিত ছিলেন। জরিনার মতো একজন অসহায় নারীর জন্য ঘর নির্মাণ করে দেয়ায় খুশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও।
Leave a Reply