দিগন্ত ডেক্স : আজ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। দিবসটি সামনে রেখে নেত্রকোনা জেলার কমলাকান্দা উপজেলার চন্দ্রডিঙ্গা গ্রামের চন্দ্রডিঙ্গা বাঁধরক্ষা কমিটি, যুবসংগঠন ও আদিবাসি নারীপুরুষ পাহাড়ী বালিতে ঢাকাপড়া জমির উপর দাড়িয়ে তাদের কৃষি-ভুমি, বসতভীটা রক্ষার দাবী তুলে ধরেন।
প্রতিবছই সীমান্তের এই মানুষের জীবনে নেমে আসে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ভেসে যায় ক্ষেতের ফসল, বসতভীটা, প্রাণিসম্পদ, আসবাবপত্রসহ জীবনের নানা উপকরণ। এভাবেই প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে টিকে আছে প্রান্তিক মানুষেরা। এবছরে প্রতিপাদ্য ‘‘অসমতার বিরুদ্ধে লড়াই করি, দুর্যোগ সহনশীল ভবিষ্যত গড়ি’’। চন্দ্রডিঙ্গা, বেতগড়া, হাতিবের এই তিন গ্রামের নারী, পুরুষ, শিশু প্রবীণ সবাই তাদের পতিত জমিতে দাঁড়িয়ে তাদের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। এ সংগ্রাম যেন তাদের জীবনের বাঁচা মরার সংগ্রাম।
উল্লেখ্য যে, জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে দুর্যোগ। নেত্রকোণা সীমান্ত অঞ্চলের গ্রাম চন্দ্রডিঙ্গা, বেতগড়া, হাতিবের। এই তিনটি গ্রামের প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমি পাহাড়ী ঢলে বালিতে ঢেকে যায় প্রতিবছর। ভরাট হয়ে যায় পাহাড়ী ছড়াটি। পানি ছড়া দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে সরাসরি কৃষি জমি ও মানুষের বাড়ির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত কয়েক বছর ধরে বালি এসে জমি, বসতভিটা এখন সম্পূর্ণ বালির দখলে। কোন শস্য বা ফসল হচ্ছেনা এ জমিতে। জমির অনেক মালিক হয়ে পড়েছে ভূমিহীন। পরিণত হয় জলবায়ু উদ্বাস্তুতে। নিজ গ্রাম বসতভীটা ছেড়ে চলে যায় অন্যগ্রামে। অনেকেই কৃষি পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। বালির আগ্রাসন থেকে জমি ও বসতভীটা রক্ষার জন্য জমির উপর দাঁড়িয়ে মানববন্ধন, গ্রামের মানুষকে নিয়ে গ্রাম আলোচনা, সংগঠনে আলোচনা, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, লেখক গবেষক, সীমান্তের কৃষক নিয়ে সংলাপ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তিন গ্রামের মানুষ তাদের কৃষি জমি ও জীবনজীবিকা রক্ষার দাবী করে আসছে ।
জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক চন্দ্রডিঙ্গা বাঁধরক্ষা সংগঠনের সাথে কৃষিজমি, কৃষিফসল ও আদিবাসি, মুসলিম পরিবারগুলো টিকে থাকার পরিবেশ সংগ্রামের সাথে উদ্যোগের সাথে কাজ করছে গত ৫ বছর ধরে। এলাকার কৃষি প্রতিবেশ রক্ষা, পরিবার গুলো খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে টিকে থাকার উপায় হিসেবে প্রায়োগিক কৃষি গবেষণা, বালি-সহনশীন শস্যফসল উৎপাদন ও পারিবারিক কৃষির উপর কাজ করে যাচ্ছে। বালির সাথে কৃষকদের চলছে একধরণের যুদ্ধ।
কাজের ধারাবাহিকতায় জাপানি দাতা সংস্থা শেয়ার দ্যা প্লানেট এসোসিয়েশনের টিমের এলাকা পরিদর্শন ও আর্থিক সহযোগিতায় ৩৭৪০ ফুট ছড়া খনন করা হয়। ছড়াটি খননে এলাকার কৃষিজমি আবার চাষ করতে পারবে কৃষক, নিজ বাড়িতে সবজী ও বসতভীটায় বাগান তবে আবারও পাহাড়ী ঢলে ছড়ার পাড় ভেঙ্গে বালি এসে কৃষি জমিকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। বারবার এভাবেই আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার মানুষ। এলাকায় খাবার পানির সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। নারীরা এক থেকে দুই কিলোমিটার দুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে। ফলে নারীরা নিরাপত্তাহীনতায়ও ভোগে। এ ধরনের সমস্যা থেকে ওই এলাকার মানুষদের রক্ষায় উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ের সকল শ্রেনী পেশার মানুষের সহায়তা চেয়েছেন অসহায় মানুষ গুলো।
Leave a Reply