সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন

নেত্রকোনায় হাওরের জনমানুষের স্থানীয় অভিযোজন বিষয়ক কর্মশালা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১১৪ পঠিত
                     

দিগন্ত ডেক্স : খরা, বন্যা, আগাম বন্যা, পাহাড়ী ঢল, আম্ফাল, বজ্্রপাত, গরম, ঠান্ডা, শৈতপ্রবাহ, ঘুণীঝড়, কৃষি উপকরনের চড়া দাম, ফসলের মুল্যকম, পোকার আক্রমন, বীজের সমস্যা, সেচের সমস্যা, অতিবৃষ্টিসহ নানান সংকট। জলবায়ুগত পরিবর্তনের কারণে এই সংকট আরো বড় হয়ে দেখা দিয়েছে কৃষকের কাছে।

এ বিষয়ের উপর বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক দাতা সংস্থা অক্সফামের সহযোগিতায়“ জলবায়ু পরিবর্তন ও হাওর লোকায়ত অভিযোজন বিষয়ক” এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দিনব্যাপি কর্মশালায় গোবিন্দশ্রী ইনউনিয়ন ও মদন ইউনিয়নের কুলিয়াটি, উচিতপুর,পশ্চিশপাড়া, বারঘরিয়া, ভূইঁয়াহাটি, খালাসিপাড়া, গ্রামের কৃষক-কৃষানি ও কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা দলের ১৯ জন কৃষক-কৃষানি, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ভিক্ষু মিয়া, উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা গোলাম রব্বানি উপস্থিত ছিলেন।

কৃষানি মিনারা আকতারকে সভাপ্রধান করে কর্মশালার কাজ শুরু হয়। কৃষক-কৃষানিরা হাওরের নিম্নলিখিত সমস্যার কথা তুলে ধরেন ও সমাধানে কি কি লোকায়ত পদ্ধতি ব্যবহার করেন তা বর্ননা করেন এবং নিজ নিজ বাড়িতে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা চর্চার পরিকল্পনা গ্রহন করেন।

যেসব সমস্যার তুলে ধরেন: আগাম বন্যা, ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে ফসলের ক্ষতি, স্থানীয় বীজ নেই, বর্ষাকালে সবজীর জন্য বাজার নির্ভরশীল, চারণভূমি, ঘনকুয়াশায় ফসলের ক্ষতি, ঢেউয়ে বসতভীটায় ভাঙ্গন, ঠান্ডায় ফসলের ক্ষতি, ফসলের রোগবালাই বেশী, গরম ও তাপদাহে ফসলের ক্ষতি, বসতভীটায় স্থান কম, ফসলে পোকার আক্রশণ বেশী, বিষের অবাধ ব্যবহার, সেচের পানির সংকট এসব সমস্যা মোকাবেলা করার লোক প্রযুক্তির কথা বর্ননা করেন। পরবর্তিতে তারা ২টি দলে বিভক্ত হয়ে সমস্যা সমাধানে অভিযোজন কৌশল লিখেন ও উপস্থাপন করেন।

নিম্নলিখিত অভিযোজন কৌশল তুলে আনেন: ডোবায় পানি সংরক্ষণে রাখে এবং চৈত্র বৈশাখ মাসে সংরক্ষিত পানি থেকে সেচ প্রদান করে,রাসায়নিক সারের পরিবর্তে খুব অল্প পরিমানে গোবর সার,কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে,ফসলের রোগবালাইয়ের জন্য জৈববালাইনাশক তৈরী করে ব্যবহার করে অল্প পরিমান কৃষক, বসতভীটা রক্ষার জন্য বাড়ীর চারপাশে ভেন্নাগাছ, উজাওরি, মুর্তাগাছ, কুচুরিপানা, হিজলকরচ রোপন করে। নিজের বাড়িতে বীজ সংরক্ষণ করে অনেকেই (সবজীবীজ),বর্ষাকালে শাকসবজীর অভাব পূরণের জন্য বস্তাপদ্ধতি, টাওয়ার পদ্ধতি, ঘরের চাল ব্যবহার করে উৎপাদন করে,স্থানান্তর পদ্ধতিতে চারার বীজতলা তৈরী করেন। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহযোগী সমন্বয়কারী শংকর ম্রং ও আ. রব।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023 digantabangla24.com