দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর ওপর ২টি সেতু নির্মানের দাবী দীর্ঘদিনের। পর্যটন এলাকাসহ সাদামাটি, কয়লা, সোমেশ্বরী নদী লাল বালি এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন এলাকায় সঠিক সময়ে পৌছানো গেলে বদলে যাবে স্থানীয় অর্থনীতির চাকা। প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে এসেছেন প্রকল্পের পরিচালক সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান, নদীর বর্তমান অবস্থা, আশপাশের যোগাযোগব্যবস্থা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রকল্প পরিচালক মাসুম সারওয়ার জানান, ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচটি সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সোমেশ্বরী নদীর ওরপ নির্মিত হবে দু‘টি সেতু। এরই লক্ষ্যে প্রস্তাবিত সোমেশ্বরী নদীর দু‘টি স্থানই পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরেজমিনে এ ধরনের পরিদর্শন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।
বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) এর যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক প্রকল্পের ৭০ শতাংশের বেশি অর্থায়ন করবে এবং বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে চারটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত একনেক সভায় দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায় চারটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রচেষ্টায় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মি. সজিব, নির্বাহী প্রকৌশলী মি. সাফায়াত, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম তুহিন, মি. বিজয়, জেলা প্রকৌশলী মি. ইলিয়াস ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. মিজানুর রহমান।
এসময়, অন্যদের মাঝে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম আলম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ ও সাধারণ সম্পাদক হারেজ গনিসহ যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, সোমেশ্বরী নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুর্গাপুরের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও গতিশীল হবে। কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির চাকা ঘুরে যাবে। একই সঙ্গে দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা -দূর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নির্বাচনী ওয়াদা ছিলো এই ৪টি বড় সেতু নির্মান করে দেয়া। যা সম্পন্ন হলে পর্যটন নগরী হিসেবে দুর্গাপুর উপজেলা দেশের ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে নতুন ভাবে পরিচিতি পাবে। নির্বাচনী ওয়াদা মোতাবেক অনেক কাজই ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শিক্ষা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এলাকার সকলকে একসাথে মিলেমিশে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
Leave a Reply