দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি : নেত্রকোণার দুর্গাপুরে প্রান্তিক কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, টেকসই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ব্র্যাক দুর্গাপুর উপজেলা মিলনায়তনে এ কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতি, জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, ফসলের উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং কৃষি খরচ কমানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারী কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জৈব সার উৎপাদনের কৌশল শেখানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ রিপন সাহা। বিশেষ অতিথি উপস্থিত, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম। অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, এলাকা ব্যবস্থাপক মোঃ হাসিবুল ইসলাম, এলাকা ব্যবস্থাপক মোঃ নেসার উদ্দিন, শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ খাইরুল ইসলাম, ব্র্যাক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, কমিউনিটি অর্গানাইজার হাফসা খাতুন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সারের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভার্মি কম্পোস্ট প্রযুক্তি কৃষকদের জন্য একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে এটি উৎপাদন খরচ কমিয়ে অধিক লাভ অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকরা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত জৈব সার বিক্রি করেও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।
কৃষিবিদ রিপন সাহা বলেন, রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট করছে। তাই কৃষকদের জৈব সার উৎপাদন ও ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মকর্তাগণ জানান, প্রান্তিক কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কৃষিতে আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আলোচনা শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা ব্র্যাকের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
Leave a Reply