কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার পাগলা এলাকার সনুড়া হুগলি জসিউড়া গ্রামে জান্নাতুল (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত জান্নাতুল ওই এলাকার কৃষক আরশাদ (আসাদ) মিয়ার মেয়ে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় গভীর শোক, উদ্বেগ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বুধবার (০৬ মে ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ধানক্ষেতে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস আলম জানান, কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের পাগলা সনুড়া হুগলি জসিউড়া গ্রামের মো. আরশাদ মিয়ার ৬ বছরের কন্যাশিশুটি গত সোমবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পরপরই পরিবার ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একইদিন ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে আশপাশের পুকুর, ডোবা ও জলাশয়ে তল্লাশি চালানো হয়, তবে কোনো সন্ধান মেলেনি। পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে কলমাকান্দা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, আজ সকালে হুগলির রাম মোহন পাল (খোকন) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নেতৃত্বে শ্রমিক দল ধান কাটতে ক্ষেতে গেলে শিশুটির মরদেহ দেখতে পায়। মরদেহটি আংশিক ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ছিল এবং মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল বলে জানান তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার কারণে বন্য প্রাণী মরদেহের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
স্বজনদের দাবি, শিশুটির মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে মনে করছেন তারা। এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম, আর পুরো এলাকায় বিরাজ করছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ।
এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
Leave a Reply