দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুর সীমান্তে বন্য হাতির আক্রমন নতুন কিছু নয়। বোরো মৌসুমে সীমান্ত এলাকার পাকা ধান কৃষকের ঘরে ওঠার প্রাক্কালে প্রতিবছরই ফসলে হানা দেয় বন্য হাতির দল। গেল দুই দিন আগেও ধানক্ষেত পাহারা শেষে বাড়ি ফেরার পথে হাতির আক্রমণে এক আদিবাসী যুব পার্থ রাংসার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (০৭ মে) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ভবানীপুর গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছে বিজিবি।
এ সময় ৩০ জন আদিবাসী ও বাঙ্গালী কৃষদের মাঝে টর্চলাইট বিতরণ করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী, ময়মনসিংহ রেঞ্জের দুর্গাপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মজনু প্রামানিক, ভবানীপুর বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আকবর, স্থানীয় ইউপি সদস্য রিদয় মিয়া সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ। মতবিনিময় সভায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা করেন।
মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী। তিনি জানান, এই মৌসুমে হাতি দ্বারা মানুষ আক্রান্ত হয়। গত দুই দিন আগেও একজন আদিবাসী কৃষক মারা গেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সীমান্তবাসীদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা আমরা শুনেছি। হাতি আলো পছন্দ করে না, তাই টর্চলাইট ব্যবহার করলে হাতিকে দূরে রাখা সম্ভব। হাতির আক্রমণের সময় তীব্র আলো ও শব্দের মাধ্যমে সেগুলো তাড়ানো যেতে পারে। যেসব এলাকায় হাতির অবস্থান বেশি, সেখানে কাঁটাযুক্ত গাছ লাগাতে হবে। এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা করা গেলে হাতির আক্রমণ কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন। বিজিবির পক্ষ থেকে ৩০ জন কৃষকের মাঝে টর্চলাইট বিতরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে যদি অন্যান্য সংস্থা বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান সীমান্তবাসীদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে বন্য হাতির আক্রমন থেকে সাধারণ কৃষক ও তাদের ফসল রক্ষা পাবে।
Leave a Reply