বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন

দেশে আসছে তেলের বড় চালান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৮ পঠিত

দিগন্ত ডেক্স : সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি বিশাল জাহাজ এখন বঙ্গোপসাগরের পথে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই চালানটি খালাস হওয়ার পর পরই দেশের একমাত্র শোধনাগারটি পূর্ণোদ্যমে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরিফ হাসনাত জানিয়েছেন, ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামক জাহাজটি বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

লোহিত সাগরের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জলপথের বর্তমান ঝুঁকি মোকাবেলা করেই জাহাজটি বাংলাদেশে আসছে। তিনি বলেন, জাহাজটি এরই মধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এটি ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা সফলভাবে পার হয়েছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির বর্তমান যুদ্ধাঞ্চল এড়িয়ে নিরাপদ জলসীমা দিয়ে আরব সাগর হয়ে জাহাজটি এখন লক্ষ্যস্থলের দিকে এগোচ্ছে।

জাহাজটি গত ২১ এপ্রিল সকাল ৬টায় সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। তার আগের পুরো রাত জাহাজটিতে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল লোড করা হয়েছিল। ৫ মে রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর দ্রুততম সময়ে তেল খালাসের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল) বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করার সক্ষমতা রাখে।

এটি দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন তেলের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে থাকে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে অপরিশোধিত তেলের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।

​তবে বিপত্তি এখনো কাটেনি পুরোপুরি। ইআরএল প্রধান জানান, ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামক আরো একটি তেলবাহী জাহাজ এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার কারণে জাহাজটি এখনো বাংলাদেশে রওনা দিতে পারেনি।

ফলে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ পৌঁছানোটা এখন শোধনাগারটির জন্য লাইফলাইন হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তাদের মতে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখনো আমদানিনির্ভর। চাহিদার প্রায় ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বাকি মাত্র ৮ শতাংশ আসে স্থানীয় উৎস এবং কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে। আমদানির এই বিশাল অংশে বিঘ্ন ঘটলেই দেশের সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় টান পড়ে।

​২০২৪-২৫ অর্থবছরে তারা মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। বর্তমানে বাজারে জ্বালানি চাহিদার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডিজেল। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন এবং উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল।

দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় গ্রাহক হলো পরিবহন খাত। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩.৪১ শতাংশ ব্যয় হয় সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহনে। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী খাত হলো কৃষি। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে কৃষি খাতে ১৫.৪১ শতাংশ জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১১.৬৭ শতাংশ, শিল্প উৎপাদনে ৫.৯৬ শতাংশ এবং গৃহস্থালি কাজে প্রায় ১ শতাংশ জ্বালানি ব্যবহৃত হয়।

​বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো এই তেলের চালান পৌঁছানো এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি সচল হওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃষি ও পরিবহন খাতে যেন কোনো প্রভাব না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই দ্রুত তেল আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। ৫ মে ‘এমটি নাইনেমিয়া’র আগমন এখন চট্টগ্রাম বন্দর ও ইআরএল কর্তৃপক্ষের জন্য বড় অপেক্ষার বিষয়। ইআরএল পুনরায় চালু হলে দেশে পেট্রল ও ডিজেলের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ আরো স্থিতিশীল হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023 digantabangla24.com