সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রশ্নফাঁস রোধে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন : শিক্ষামন্ত্রী সম্প্রীতির দৃস্টান্ত স্থাপন, তিন ধর্মের মানুষ দিয়ে খাল খনন উদ্বোধন করিয়েছেন : ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন দুর্গাপুরে হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন উদ্বোধন কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবারে অনিয়ম: তালিকা আছে, বাস্তব নেই দুর্গাপুরে নজরুল সম্মাননা স্মারক পেলেনতিন গুণীজন আল্লাহ যেভাবে বান্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র দুর্গাপুরে পুলিশের সচেতনতামূলক বার্তা তেল নেই লেখা গুদামে মিলল, ৪ হাজার লিটার ডিজেল

আইনগত স্থগিত হলেও প্রশাসক কার্যক্রমে – কলমাকান্দায় আইনি ধোঁয়াশা কাটবে কবে ?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮০ পঠিত

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদ ঘিরে আইনি ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগ ঘোষণাপত্র ও দপ্তর আদেশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখলেও, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়ভাবে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও বিভ্রান্তি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রিট আবেদন নম্বর–১০৭২/২০২৬ এ জারি করা রুলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ১০১ ও ১০২ অনুযায়ী জারিকৃত ঘোষণাপত্র ও দপ্তর আদেশ কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের সংশ্লিষ্ট আদেশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে এবং চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

রিটকারী চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া বলেন, তিনি স্থগিতাদেশের অনুলিপি সংযুক্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, আদালতের স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকায় তিনি আইনগতভাবে চেয়ারম্যান পদে বহাল আছেন। তাঁর ভাষ্য, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই।

তবে প্রশ্ন উঠেছে- স্থগিতাদেশ জারির পরও প্রশাসকের দায়িত্ব পালন কতটা আইনসম্মত ? নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে দায়িত্ব পালন করছি। আদালতের আদেশ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, উক্ত স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আপিল দায়ের করা হয়েছে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।

পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, স্থগিতাদেশের অনুলিপি এখনও আমাদের হাতে পৌঁছেনি।

আইনজীবী মহলের মতে, আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট ঘোষণাপত্র ও দপ্তর আদেশের বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কথা। সে ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আদেশ বা অনুলিপি প্রাপ্তির বিষয়টিও প্রক্রিয়াগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ-এ যুক্তিও সামনে আনা হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আদালতের নির্দেশ-এই তিন স্তরের সমন্বয় না হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। এতে সাধারণ নাগরিকের সেবা প্রাপ্তি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এখন সবার দৃষ্টি চার সপ্তাহ পর নির্ধারিত রুল শুনানির দিকে। সেখানে আদালত কী অবস্থান নেবে? প্রশাসনিক কার্যক্রমে কি আসবে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা, নাকি চলবে দ্বৈত অবস্থান?

আইনি ব্যাখ্যা ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার স্পষ্টতা না আসা পর্যন্ত লেংগুরা ইউনিয়নে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023 digantabangla24.com