দিগন্ত ডেক্স : চায়না দুয়ারি জলজ জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মকভাবে ধ্বংস করে, বিশেষ করে ছোট মাছ, মাছের পোনা, চিংড়ি, মাটির ডিম, কচ্ছপ, ব্যাঙ এবং কাঁকড়াসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী এর ফাঁদে আটকা পড়ে মারা যায়। চায়না দোয়ারি জাল অবৈধ এবং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলোকে সামনে রেখে নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলা ‘গ্রিন কোয়ালিশন’, বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক‘র আয়োজনে ও এগ্রোইকোলজি ফান্ড‘র সহযোগিতায় প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করা হয়। বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এঁর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণায়লয় ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেস্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান বরাবর এক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধনে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন ‘জানমা (জাল-নদী-মাছ)’ উপজেলা কমিটির সভাপতি যোগেশ চন্দ দাস, আটপাড়া উপজেলা সবুজ সংহতি কমিটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক সাজেদুর রহমান সেলিম,নারী নেত্রী ফৌওজিয়া নাসরিন, সাংবাদিক মির্জা হৃদয় সাগর, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বকারী পরিবেশ কর্মী মো. অহিদুর রহমান, জেলে, কৃষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, যুবক কিশোরী সহ অনেকেই।
বক্তারা বলেন, ‘চায়না দুয়ারি জাল হাওরের মাছকে বিলুপ্ত করে দিচ্ছে। এই জালের ফাঁক খুবই সূক্ষ্ম হওয়ায় ছোট-বড় সব ধরনের মাছই এতে আটকা পড়ে, ফলে প্রজননক্ষম মাছের পাশাপাশি ডিমওয়ালা ও পোনা মাছও ধরা পড়ে যায়। এর ফলে মাছের প্রাকৃতিক বংশবিস্তার ব্যাহত হয় এবং প্রজাতির সংখ্যা দ্রুত কমে যায়। তাছাড়া এই জাল ব্যবহারের সময় পানির নিচের ঘাস, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী ধ্বংস হয়ে যায়, যা মাছের আশ্রয় ও খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে। চায়না দুয়ারীসহ সব ধরনের নিষিদ্ধ জাল তৈরি, মজুদ, আমদানি, বিক্রয় বা ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি এ অপরাধের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া হাওর, নদী, খাল, বিলে চায়না দুয়ারি জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। মৎস্য অফিসের তদারকি আরো বাড়াতে হবে। চায়না জাল উৎপাদন, বিপণন, আমদানি, রপ্তানি, বুনন, সংরক্ষণসহ সার্বিকভাবে বন্ধ করতে হবে। মানববন্ধন শেষে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এঁর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণায়লয় ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেস্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান বরাবর এক স্মারকলিপি প্রদান করেছে উপজেলা ‘গ্রিন কোয়ালিশন’ কমিটি।
Leave a Reply