দিগন্ত ডেক্স : একটি শিশু আর একটি শিশুর জন্ম দিতে পারেনা। বাল্যবিবাহ একটি মারাত্মক সামাজিক অপরাধ যার বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এবং তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়। একটি মেয়েকে সুরক্ষা না দিয়ে তার কাছ থেকে শৈশব ও জীবনের অনেক সুযোগ কেড়ে নেয়। মেয়েদের কম বয়সে সন্তান জন্মদানের কারণে মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, যার ফলে মা ও শিশুর মৃত্যুর হার বেশি হয়।
বাল্যবিবাহ বন্ধে সচেতনতার অংশ হিসেবে শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের ২৪০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে লালকার্ড প্রদর্শন ও আলোচনা ্অনুষ্ঠান করা হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, লক্ষীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোখসানা বেগম। আলোচনা করেন আটপাড়া উপজেলার নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি নারী নেত্রী ফৌওজিয়া নাসরিন, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমানসহ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
আলোচনায় ফৌওজিয়া বলেন,“বাল্যবিবাহের ফলে শিশুরা তাদের শৈশব হারিয়ে ফেলে এবং সামাজিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।সমাজের সামগ্রিক উন্নতিতে বাধা দেয়। একটি সুস্থ ও শিক্ষিত জাতি পেতে হলে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা অপরিহার্য। বাংলাদেশ বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করেন, তবে তিনি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন এবং তাকে কারাদ- বা জরিমানা বা উভয় শাস্তি দেওয়া হতে পারে। কাজেই আমরা নিজের সুন্দর জীবনকে বাল্যবিবাহ করে নষ্ট করতে চাইনা।”
প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধান শিক্ষক রোখসানা বেগম বলেন,“আমাদের প্রত্যেককে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে এবং নিজেদের সন্তান, ছেলে বা মেয়ে, উভয়কেই এই ক্ষতিকারক প্রথা থেকে রক্ষা করতে হবে। বাল্যবিবাহকে ‘না’ বলুন এবং একটি সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করুন।” আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীরা বাল্যবিবাহকে লালকার্ড প্রদর্শন ও বাল্যবিবাহ বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান সম্মলিত প্লেকার্ড ব্যবহার করেন।
Leave a Reply