ভৈরবে রেল দুর্ঘটনার পর ট্রেন চলাচল মঙ্গলবার সকাল থেকে স্বাভাবিক হয়েছে। তবে রাতে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে উদ্দেশে এগারসিন্দুর রেলটি ছেড়ে না আসায় মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনটির প্রভাতির যাত্রা বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সোমবারের ট্রেন দুর্ঘটনায় ঢাকার ডাব ব্যবসায়ী সুজন মিয়া পরিবারের পাঁচ সদস্য নিয়ে বড় ভাইয়ের ছেলের বিয়ের দাওয়াতে বাড়ি এসেছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে বরাবরের মতোই নিরাপদ বাহন ভেবে আন্তঃনগর এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ঢাকা ফিরে যাচ্ছিলেন; কিন্তু শেষপর্যন্ত ভৈরব রেলওয়ে জংশনের অদূরে সংঘটিত ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পরিবারের সবার। স্ত্রী ফাতেমা আক্তার, ছেলে সজীব মিয়া ইসমাইল মিয়া ও সুজন মিয়া সহ অপর একজন ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হন। সুজন মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা লাগুয়া পার্শ্ববর্তী জেলা ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের বনহাটি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
নিহত সুজনের ভাই স্বপন মিয়া জানান, সুজন মিয়া ঢাকার মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড এলাকায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সংসার চালাতেন ভ্যানগাড়িতে ডাব বিক্রি করে। গত শুক্রবার বড় ভাইয়ের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে সোমবার এগারসিন্দুর ট্রেনে করে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসার উদ্দেশ্যে ফিরে যাচ্ছিলেন। আর স্বপন মিয়া নিজেও ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার সময় তিনি পাঁচ নম্বর বগিতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও জানান, সোমবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৩টার ৪৫ মিনিটের দিকে ভৈরব জংশনের কাছাকাছি জগন্নাথপুর রেলক্রসিং এলাকায় আন্তঃনগর এগারসিন্দুর ও চট্টগ্রামগামী মালবাহী ট্রেনের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়। নিহত ১৬ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে একজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তার মরদেহটি কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় ৭৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ শনাক্ত করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে দিয়ে দেওয়া হবে।
রেলওয়ে কৃর্তপক্ষ জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন এসে দুর্ঘটনাকবলিত এগারসিন্দুর ট্রেনের ৩টি বগি উদ্ধার করে। পরে সোমবার রাতে প্রথমে ডাউন লাইনে ও মঙ্গলবার সকাল ৭টার আপ-ডাউন দুই লাইনে পুরোপুরি ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ঘটনায় ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো এ দুর্ঘটনা কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করবে। দিগন্ত ডেক্স : (খো/ই)
Leave a Reply