শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

বাড়ছে পদ্মার পানি, বন্দি ৫০ হাজার মানুষ, বন্ধ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ পঠিত

দিগন্ত ডেক্স : পদ্মা নদীর পানি বেড়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। পরিস্থিতি বিবেচনায় দুটি ইউনিয়নের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম পরিচালনায় নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি  হয়ে পড়েছেন। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদীভাঙন ও সাপ আতঙ্কে দিন কাটছে এসব এলাকার মানুষের।

পরিস্থিতি বিবেচনায় রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান নিরুৎসাহিত করেছে উপজেলা প্রশাসন।

পদ্মার পানি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকাতেও। চিলমারী ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী সীমান্তঘেঁষা উদয়নগর, আতারপাড়া ও ডিগ্রিরচর এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও যোগাযোগের সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ২ সেন্টিমিটার। সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকার ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি নজরে রেখেছে। প্লাবিত এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তীব্র স্রোতের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। পাশের জেলা পাবনা-রাজবাড়ী নৌপথে পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে পদ্মায় প্রতিদিনই পানি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় প্রতিবছরই পানির ভয় থাকে। এবার পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে নদীভাঙনের আশঙ্কাও করছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গত দুই-তিন দিনে ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চলের ঘর বাড়িতে পানির উঠে গেছে বলে জানিয়েছেন চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। তার দাবি, এতে তার ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের চারপাশে এখন পানি। সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক বাড়ির ভেতরে পানি না ঢুকলেও ভিটা পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023 digantabangla24.com