দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের সাগরদিঘী গ্রামের হার্টে ছিদ্র নিয়ে জন্মানো এক আদিবাসী শিশু সেংনাম শিমনের পরিবারের মুখের দিকে এখন আর তাকানো যায় না। এক সময় নিজের ইচ্ছামতো খেলাধুলা করতো শিমন। এদিক ওদিক তাকাতো। এখন অল্পতেই হাঁপিয়ে যায় সে, দ্রুত শ্বাস নেয় এবং ক্লান্তি অনুভব করে। ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্মের পর থিওফিল সাংমা ও মারিয়া নেংমীঞ্জা দম্পত্তির সংসারে খুশির বন্যা বয়ে গিয়েছিল।
তবে শিমনের জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই তার হার্টে একটি ছিদ্র ধরা পড়ায় ওই পরিবারের মুখে নেমে এসেছে কালো মেঘের ছায়া। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হার্টে ছিদ্র নিয়েই জম্ম নিয়েছে সে। শারীরিক এ সমস্যায় শিশুটির হার্টে দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে। এতে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা প্রয়োজন। ব্যয়বহুল চিকিৎসা ও অপারেশনের খরচ বহন করা ওই আদিবাসী পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। সন্তানের জীবন বাঁচাতে দিশেহারা হয়ে পড়েন বাবা-মা।
শিশুটির অসুস্থতার বিষয়টি জানতে পেরে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (এমপি)। অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ধারাবাহিকতায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেন। তাঁর মানবিক উদ্যোগে একটি সহযোগী টিম শিশুটির চিকিৎসার সার্বিক বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (এমপি) এর সহযোগী টিমের উদ্যোগে ছোট্ট সেংনাম শিমনকে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে। চিকিৎসকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, অপারেশন সফল হলে শিমন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।
শিশুটির বাবা থিওফিল সাংমা বলেন, সামর্থ্যরে বাইরে থাকা এই কঠিন সময়ে জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (এমপি) মহোদয়ের মানবিক সহযোগিতা, আমাদের মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। আমরা ওনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সেইসাথে দেশবাসীর কাছে ছোট্ট সেংনাম শিমনের জন্য দোয়া ও আশির্বাদ কামনা করছি।
ডেপুটি স্পিকারের সহযোগী টিম জানিয়েছে, মানবতার কল্যাণে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের অঙ্গীকার। অর্থের অভাবে কোনো অসহায় মানুষ যেনো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদেরকেও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।
বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ্ খান বলেন, থিওফিল সাংমা খুবই গরিব মানুষ। ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য তাদের নেই। হতদরিদ্র এই পরিবারের পাশে সহায়তার হাত বাঁড়িয়ে দিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এর জন্য ওনাকে ধন্যবাদ জানাই। এছাড়া নিজ অর্থায়নে অসচ্ছল, হতদরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, আর্থিক অনুদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, অসুস্থ ও দৃষ্টিহীন রোগীদের চিকিৎসা করানো, আশ্রয়হীনদের জন্য নতুন ঘর বিতরণ করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন, তা আর কোন সংসদ সদস্যই করতে পারেননি। এমন সংসদ সদস্য পেয়ে আমরা গর্বিত। তিনি আ-জীবন বেঁচে থাকবেন সাধারণ মানুষের হৃদয়ে।
এ বিষয়ে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সকলের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, ছোট্ট সেংনাম শিমনের অপারেশন যেন সফলভাবে সম্পন্ন হয়, সে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে এ জন্য আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। সৃষ্টিকর্তা এই নিষ্পাপ শিশুটিকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করেন।
Leave a Reply