দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলা। এই উপজেলাকে ঢেলে সাজাতে এবং প্রশাসনিক ভাবে একধাপ এগিয়ে নিতে ১৯৯৪ সনে স্থাপিত হয় দুর্গাপুর পৌরসভা। নানা ভাবে পৌরসভার উন্নয়ন হলেও একটি আধুনিক পৌরসভা হিসেবে এখনো রুপদান করতে পারেননি এযাবৎকাল দায়িত্বে থাকা মেয়র ও প্রশাসকগণ।
পৌরসভাকে একটি আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে সবার আগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, যানজটমুক্ত শহর, পরিকল্পিত সড়ক, শতভাগ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সকল নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজ করা প্রয়োজন। কিন্ত এর কোনটাই দৃশ্যমান হয়নি। পৌরসভার ভিতর দিয়ে বয়ে চলা নদী-খাল গুলো খনন করে দূষনমুক্ত করতে হবে। ড্রেনগুলো আবর্জনায় ভরে গেছে, ফলে এগুলো দিয়ে ঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন হয় না, যেকারণে অল্প বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
এরই মাঝে ২০১৬ সনে দুর্গাপুর পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেনীতে উন্নীত করা হলেও পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে এখনো পিছিয়ে রয়েছে অনেক কাজ। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ বা সহায়তার ব্যবস্থা রাখা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও পৌরবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সচেতনতামুলক কার্যক্রম গুলো হাতে নিলেই দুর্গাপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন পৌরশহর গঠন করা সম্ভব হবে।
চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই সারাদেশে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এরই মাঝে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরের বিভিন্ন হাট-বাজার তথা অফিস পাড়াতে চলছে নানা গুঞ্জন। কে হবেন এই পৌরসভার মেয়র। কে ধরবেন হাল ? কেমন মেয়র চান সাধারণ মানুষ, এনিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা।
৯টি ওয়ার্ডের প্রায় ২২ হাজার ভোটারদের মনজয় করার এই যুদ্ধটা আগামি অক্টোবর মাস থেকেই শুরু হয়ে যাবে। চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী কেউ একজন নির্বাচিত হবেনই। আগামি পাঁচ বছর পৌরপিতার চেয়ারে কাকে বসাবেন, দুর্গাপুরের মানুষের কাছে সেটাই এখন ভাবনার বিষয়।
নির্বাচিত মেয়রকে এই বিষয়গুলো সমাধানের জন্য নতুন করে ভাবতে হবে। আর এর জন্যই দরকার জনসেবা করার মতো মানসিকতা সম্পন্ন মেয়র। যিনি নিজেকে শাসক না ভেবে জনগণের সেবক মনে করবেন। ভোটারদের ভাবনা গুলো নিজের মনে জায়গা দিবেন। একটা মানুষ যখন কোন বিষয় ভিতর থেকে অনুভব করে কেবল তখনই তার দ্বারা ভালো কিছুর আশা করা যায়। তাই পৌরসভার সমস্যাগুলো ভেতর থেকে অনুভব করেন এমন কাউকেই পৌরপিতার চেয়ারটি দেওয়া উচিত।
পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক ভোটারগণ জানান, এ পৌর এলাকায় কোন স্থায়ী ডাস্টবিন নেই, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। সেগুলো সময়মতো পরিষ্কার করা হয় না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পৌর এলাকা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পরিণত হবে। পৌর এলাকার এসব সমস্যার সমাধানে যোগ্য ব্যক্তিকেই মেয়র হিসেবে দেখতে চাই আমরা। অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে তরুন প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব জামাল উদ্দীন মাস্টারকেই আমাদের পছন্দ।
পৌর এলাকার যুবকদের বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্র, সংস্কৃতি চর্চার জন্য অডিটরিয়াম, খেলাধূলার জন্য যুবকদের উৎসাহিত করতে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। পৌরসুপার মার্কেট তৈরী, সড়কের দুপাশ দখলমুক্ত করে জনসাধারণের জন্য ফুটপথ তৈরী পৌরসভার উদ্যেগ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ভোটাররা মনে করেন, সৎ ও যোগ্য মেয়র নির্বাচিত করতে পারলে এসকল সমস্যা সামাধান হয়ে যাবে। আগামী নির্বাচনে যেসকল প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে এদের মধ্যে তরুন ভোটারদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন আলহাজ্ব জামাল উদ্দীন মাস্টার।
উদারতা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে দুর্গাপুর পৌরসভার প্রায় সকল ভোটারদের কাছে স্থান করে নিয়েছেন মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার। সম্প্রতি সাংবাদিকদের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি যদি মেয়র নির্বাচিত নই, ওই মেয়র আমি নই, পৌরবাসী সকলেই হবেন মেয়র। যারা আমাকে ভোট দিবেন, সকলের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে সুখে-দুঃখে, সংকটে, মহামারি, দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সাথে নিয়েই পৌরসভার উন্নয়ন করবো। আমি ওয়াদা করছি, আমি নির্বাচিত হলে, দুর্গাপুর পৌরসভাকে মাদক, ইভটিজিং, চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসমুক্ত পৌরসভা হিবেবে গড়ে তুলবো। আপনারা আমার পাশে থেকে মতামত দিবেন, আমি আমার মেয়াদের শেষদিন পর্যন্ত সকলকে সাথে নিয়েই কাজ করে যাবো।
দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তিনি বলেন, ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রদল, পরে যুবদল এবং পরবর্তি সময়ে বিএনপি‘র একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে সকলকে সাথে নিয়ে মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে উপজেলা বিএনপি‘র সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছি। দুর্গাপুর-কলমাকান্দার অভিভাবক, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যাস্টিকার কায়সার কামাল মহোদয় আমার একমাত্র পথপ্রদর্শক। ওনার রাজনৈতিক আদর্শ বুকে ধারণ করে দলীয় সকল কাজ করে যাচ্ছি। সততা, নিষ্ঠা ও রাজতৈনিক প্রজ্ঞা কাকে বলে, আমি ওনার কাছ থেকেই শিখেছি। আমার সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে মাঠে কাজ করে যাবো ইনশাহআল্লাহ।
বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট সরকার কর্তৃক বহু মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানী করা হয়েছে। বহুবার জেল খেটেছি, আমরা উপর হামলা হয়েছে, তবুও আমি পিছ পা হইনি। গত ৫ আগষ্টের পর পৌর শহরের কোন ব্যবসায়ীর উপর হামলা হতে দেইনি। নির্বিঘ্নে যাতে তারা ব্যবসা করতে পারে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সবসময় প্রহরী হয়ে কাজ করেছি। এখনো পৌরবাসীর যেকোন বিপদ আপদে দিনে রাতে কাজ করে যাচ্ছি। দলীয় সিদ্ধান্তে বাইরে গিয়ে কোন কাজ করিনি। আশা-করছি দল আমাকে মুল্যায়ন করবে। আমি বিগত ২০১৫ ও ২০২২ সালে বিএনপির মনোনীত মেয়রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এসব নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমাকে তৃণমুলে কাজ করতে এবং মাঠপর্যায়ে একটি পরিচিত রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা এসব কারণে জামাল উদ্দিন মাস্টার সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম প্রার্থী হিসেবে সকলের মুখে মুখে আলোচনায় রয়েছেন। তবে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দলীয় মনোনয়ন, অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীর অবস্থান, নির্বাচনী প্রচারণা এবং ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার গতিপথ ততই বাড়ছে।
পৌরসভাকে নিয়ে তিনি আগামীর পরিকল্পনা হিসেবে জালাল উদ্দীন মাস্টার বলেন, দুর্গাপুর একটি পর্যটন সম্ভাবনার এলাকা। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য একটি কমপ্লেঙ্, বিনোদনের জন্য শিশুপার্ক, অডিটরিয়াম, একটি স্থায়ী মঞ্চ, পৌর গ্রন্থাগার, পৌর বাস টার্মিনাল, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, আলাদা হেলথ ইউনিট এবং পৌরসভাকে আলোকসজ্জিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া রোড ডিভাইডর, এসএস পাইপ দিয়ে সজ্জিত করা, শহরের প্রধান প্রধান সড়কে আকর্ষণীয় চত্বর নির্মাণ করতে চাই।
উন্নত ড্রেন নির্মাণসহ সনাতন ধর্ম্মালম্বীদের শ্মশান ঘাটকে সংস্কার, উত্তরপাড়া মন্দির সংস্কার করণ সহ সকল পৌরসেবাকে ডিজিটালাইজড করতে চাই, যাতে ঘরে বসেই সকল পৌরসেবা পাওয়া যায়। পৌরএলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোকে মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেইসাথে সকলপ্রকার পৌরসেবা জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে চাই, যা কোন সময়ই অন্য কেউ তা করতে পারেনি। আমি ভোগে নয়, ত্যাগের মাধ্যমে যেনো আপনাদের পাশে থাকতে পারি।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুর পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন, নির্বাচনী প্রচারণা এবং সর্বোপরি ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের পৌর নেতৃত্ব। এক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের নানাবিধ মামলা হামলায় নির্যাতিত হওয়ায় তৃণমুলের নেতাকর্মীরাও মনে করছেন দলীয় মনোনয়ন জামাল উদ্দিন মাস্টারকেই দেয়া উচিত।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দলের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতার কারণে তিনি সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে পরিচিত মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়া পৌরনির্বাচনে সম্ভাব্যপ্রার্থী হিসেবে বিএনপি থেকে সাবেক মেয়র শুভেন্দু সরকার পিন্টু সহ উপজেলা বিএনপি‘র বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম ও সিপিবি থেকে শামছুল আলম খানের নাম শোনা যাচ্ছে বলে জানান সাধারণ ভোটরগণ।
Leave a Reply