দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালে পড়া প্রায় ৭ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকালে উপজেলার গহীন বনে অজগরটিকে বনে অবমুক্ত করে স্থানীয় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং-এর স্বেচ্ছাসেবক ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
এর আগে সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের তিনালী এলাকায় স্থানীয় এক বাসিন্দার পেতে রাখা নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালে আটকা পড়ে অজগরটি। পরে খবর পেয়ে অজগরটিকে উদ্ধার করে সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং-এর স্বেচ্ছাসেবকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল জাল থেকে মাছ সংগ্রহে গেলে জালের ভেতর বড় কিছু দেখতে পান। বড় মাছ ভেবে পানি থেকে জাল তুলে ধরতেই ভেতরে বড় একটি সাপ দেখেন। পরে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আমির খান বিষয়টি স্বেচ্ছাসেবকদের জানালে স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা অজগরটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগকে সাথে নিয়ে উপজেলার গহীন বনে অবমুক্ত করে।
বন বিভাগের ফরেস্ট গার্ড মনোয়ার হোসেন জানান, আমরা স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি সদর ইউনিয়নের তিনালী এলাকায় একটি অজগর সাপ ধরা পড়েছে এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং-এর সদস্যরা অজগরটি উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে রেখেছেন। পরবর্তীতে বন বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদের সাথে নিয়ে আমরা গহীন বনে অজগরটিকে অবমুক্ত করি।
সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং-এর সভাপতি রিফাত আহমেদ রাসেল বলেন, আমরা স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগর সাপটিকে উদ্ধার করি। অজগর সাপটি লম্বায় প্রায় সাত ফুটের মতো এবং ওজন ৮ থেকে ৯ কেজির মতো। এটি একটি বার্মিজ পাইথন প্রজাতির সাপ। অজগর সাপটি মূলত স্থানীয় এক বাসিন্দার পেতে রাখা মাছধরা নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালে আটকা পড়ে। সাপের শরীরে কোনো আঘাত না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে স্থানীয় বন বিভাগকে সাথে নিয়ে উপজেলার গহীন বনে আমরা অজগর সাপটিকে অবমুক্ত করি।
তিনি আরো জানান, আমরা এর আগেও প্রায় ৬০টি রেস্কিউ অভিযানের মাধ্যমে বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর, মেছো বিড়াল, বনরুইসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছি। এর মধ্যে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২০টি অজগর সাপ লোকালয় থেকে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেছি। মূলত বর্ষায় উজানের পাহাড়ি ঢালের তীব্র স্রোতে বা তীব্র গরমের কারণে ঝোপঝাড় থেকে অজগর সাপ খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে। এছাড়াও বর্তমানে নদী, খাল-বিলসহ সর্বত্র নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বাড়ায় তাতে আটকা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
Leave a Reply