রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন

কিডনি খারাপ হওয়ার আগে যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৬২ পঠিত

স্ব্যাস্থ্য নিউজ ডেক্স :  আমাদের শরীরে কিছু অঙ্গ আছে যেগুলো ছাড়া বেঁচে থাকা একেবারেই অসম্ভব। তার মধ্যে কিডনি অন্যতম। দুই পাশে থাকা এই ছোট্ট অঙ্গ জলের মতো চুপচাপ থেকে প্রতিদিন শরীরের ভেতরে চালায় হাজারো কাজ। মূত্র তৈরি করা থেকে শুরু করে শরীরের ক্ষতিকর বর্জ্য বের করে দেওয়া, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, এমনকি হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা— সবকিছুই নির্ভর করে কিডনির ওপর।

সমস্যা হলো, কিডনি নষ্ট হওয়ার লক্ষণগুলো অন্য রোগের মতো তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে না। কারণ একটি কিডনি বিকল হলেও অন্যটি দিয়ে কাজ চালিয়ে যায় শরীর। তাই অনেক সময় মানুষ টেরই পান না, কখন কিডনি ভয়ংকর অবস্থায় পৌঁছে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি খারাপ হওয়ার আগে শরীর আমাদের কিছু সংকেত পাঠায়, আর সেই সংকেতগুলো সবচেয়ে আগে ধরা দিতে পারে চোখে। চোখে দেখা দেওয়া কয়েকটি লক্ষণ আসলে হতে পারে কিডনির অসুস্থতার প্রথম সতর্কবার্তা। এগুলো উপেক্ষা করলে বিপদ আরও বড় হতে পারে।

চিকিৎসকরা জানান, কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে দেহে টক্সিন জমে যায়, পানি ও খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হয়। চোখ যেহেতু অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ, তাই শরীরের ভেতরের পরিবর্তন অনেক সময় প্রথমে চোখেই ধরা পড়ে। চলুন জেনে নিই, কিডনি খারাপ হওয়ার আগে কী কী সংকেত দেয় চোখ—

১. ঝাপসা বা দ্বিগুণ দেখাঃ হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, ফোকাস করতে কষ্ট হওয়া বা দ্বিগুণ দেখা— এসব হতে পারে চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালির ক্ষতির ফলাফল হিসেবে, যা হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নামে পরিচিত। উচ্চ রক্তচাপ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনি রোগের প্রধান কারণ এবং এসব রেটিনার রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে রেটিনায় তরল জমা, ফোলা ভাব, এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি থাকে। যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকে এবং হঠাৎ দৃষ্টি পরিবর্তন হওয়ার মতো ঘটনাগুলো ঘটে, চোখের পরীক্ষা সঙ্গে কিডনি পরীক্ষা করানোও জরুরি।

২. চোখ শুষ্ক, চুলকানো বা জ্বালাঃ  চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া, শুষ্ক বোধ হওয়া বা চুলকানি অনেক কারণেই হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ীভাবে শুষ্ক চোখ উচ্চ পর্যায়ের কিডনি রোগ বা ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের মধ্যে সাধারণত হতে দেখা যায়। এর কারণ হতে পারে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের ভারসাম্যহীনতা বা শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে গিয়ে অশ্রু উৎপাদন ও চোখের লুব্রিকেশন কমে যাওয়া। যদি পরিবেশগত কারণ ছাড়াই চোখ বারবার শুষ্ক হয়ে যায়, লাল হয়ে যায়, খচ খচ করে, তাহলে কিডনি পরীক্ষা করে ফেলুন। কৃত্রিম অশ্রু বা চোখ আর্দ্র রাখার উপায় সাময়িকভাবে স্বস্তি দিলেও আসল কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

৩. সারা দিন চোখ ফোলাঃ ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেরই চোখ ফোলা থাকে। সেটা এক বিষয়। কিন্তু সেই ফোলা চোখ যদি সারা দিন থাকে, তাহলে চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে চোখের পাতার চারপাশে ফোলাভাব থাকলে সতর্ক হোন। এটি প্রোটিনুরিয়া হতে পারে, যেখানে প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বের হয়ে যায়। এতে শরীরের নরম টিস্যুতে তরল জমে যায়। যেমন জমে চোখের চারপাশে। কিডনির ক্ষতির অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ এটি।

৪. রং বুঝতে ঝামেলাঃ কিডনিতে কোনো সমস্যা তৈরি হলে এর প্রভাব পড়ে রং বোঝার ক্ষেত্রে। বিশেষ করে নীল ও হলুদ রঙ। এর কারণ হতে পারে অপটিক নার্ভ বা রেটিনার ক্ষতি, যা দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা ইউরেমিক টক্সিন জমে যাওয়ার কারণে হয়। এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে শুরু হয়। প্রথমে চোখ এড়িয়ে যেতে পারে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা স্পষ্ট হতে থাকে। সঠিকভাবে রঙ ধরতে না পারলে অথবা দৃষ্টি নিস্তেজ হলে, বয়স হয়েছে ভেবে বসে থাকবেন না। চিকিৎসকের কাছে যান। পরীক্ষা করান।

৫. লাল বা রক্তাভ চোখঃ চোখ লাল হওয়ার পেছনে অ্যালার্জি, ক্লান্তি বা সংক্রমণ— এসব সাধারণ কারণ থাকতে পারে। তবে কিডনি রোগের ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের কারণও থাকতে পারে। রক্তচাপ বেড়ে গেলে চোখের ক্ষুদ্র রক্তনালি ফেটে গিয়ে চোখ রক্তাভ দেখাতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটো ইমিউন রোগ কিডনি ও চোখ উভয়কেই প্রদাহগ্রস্ত করে তোলে। চোখ লালের সঙ্গে যদি জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা বা ত্বকে র‍্যাশ দেখা দেয়, তবে অবশ্যই পরীক্ষা ও চিকিৎসা করান।

সতর্কতা : চোখের সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, সঙ্গে ক্লান্তি, শরীর ফোলা বা প্রস্রাবে পরিবর্তন হয়, তাহলে চোখ ও কিডনি দুটোই পরীক্ষা করান।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023 digantabangla24.com