দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সীমান্তঘেঁষা একটি খালের জায়গা দখল করে পাকা দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে রাজিব রায় নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। খালের প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা দখল করে দেয়াল নির্মাণের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নির্মাণকাজ, একই সঙ্গে নির্মিত পাকা দেয়াল সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার ২ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের বারমারী লক্ষীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারমারী লক্ষীপুর গ্রামের সীমান্তঘেঁষা একটি খালের জায়গায় পাকা দেয়াল নির্মাণ করছিলেন রাজিব নামে এক ব্যক্তি। সরেজমিনে গিয়ে খালের প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা দখল করে দেয়াল নির্মাণের চিত্র দেখা যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে বিষয়টি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কে অবহিত করেন স্থানীয়রা। পরবর্তিতে বিষয়টি প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেন ডেপুটি স্পিকর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পরে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অবৈধ খালদখল কার্যক্রম বন্ধ করে দেন, সেইসাথে আগামী তিন দিনের মধ্যে খালের জমিতে নির্মিত পাকা দেয়াল সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়।
এ সময়, দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারেজ উদ্দিন, হাজং প্রতিনিদি দোলন হাজং সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কে ধন্যবাদ জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, খালটি যেন কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মনে করি, এভাবে খালের জায়গা দখল হতে থাকলে একসময় খালটি সংকুচিত হয়ে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হতে পারে এবং জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এলাকাবাসীরা আরও বলেন, খালের যায়গায় নির্মিত দেয়াল অপসারণের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারেন এবং খাল থেকে অবৈধ ভাবে কেউ যেনো বালি ও পাথর তুলতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জোরদাবী জানান তারা।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান বলেন, জনস্বার্থ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খালের জায়গা সুরক্ষিত রাখা হবে এবং খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেইসাতে খাল থেকে যাতে কেউ যাতে অবৈধভাবে বালি ও পাথর তুলতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজরদারী রাখবে উপজেলা প্রশাসন।
Leave a Reply