Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

আগামী সপ্তাহ থেকে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধন শুরু : তথ্যমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম / ১১১ বার
আপডেট সময় :: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

দিগন্ত নিউজ ডেক্স : আগামী সপ্তাহ থেকে অনলাইন সংবাদ পোর্টালগুলোর নিবন্ধন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, দেশে যে অনলাইন সংবাদ পোর্টালগুলো আছে, সেগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে আমরা দরখাস্ত আহ্বান করেছিলাম। এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৯৭টি দরখাস্ত জমা পড়েছে। সেগুলো তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যে কয়েকশ’ অনলাইনের তদন্ত শেষ করেছে, তার প্রতিবেদন আজ বা কালকের মধ্যে আমাদের কাছে পাঠাবে। আমরা আগামী সপ্তাহ থেকে অনলাইনগুলোর নিবন্ধন দেয়া শুরু করব। এ প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগবে। কারণ সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি অনলাইনের তদন্ত শেষ করা সহজ কাজ নয় এবং কয়েকটি সংস্থা তদন্ত করছে। যে কটি আমরা পাব, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিবন্ধন দেয়া শুরু করব। তবে ভবিষ্যতেও যেন অনলাইন সংবাদ পোর্টাল কেউ করতে পারে, সে জন্য আমরা পরবর্তী সময়ে আবার দরখাস্ত আহ্বান করব।

এটি চলমান থাকবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখানে যে অনলাইনগুলো আছে সেগুলোতেই তো এ মাধ্যম শেষ হয়ে যেতে পারে না। পত্রিকা যেমন যে কেউ যে কোনো সময় বের করতে পারে, ভবিষ্যতে তেমনি অনলাইনও বের করতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যতে অনলাইন পোর্টাল চালু করতে হলে একটি প্রক্রিয়ায় অনুমতির মাধ্যমে করতে হবে। পত্রিকা বের করতে চাইলে যেমন নামের ছাড়পত্র নিতে হয়, অনলাইনের ক্ষেত্রেও একটি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে বের করতে হবে। আইপি টিভি, আইপি রেডিওর জন্যও আমরা দরখাস্ত আহ্বান করেছিলাম। এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সবাইকেই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

টেলিভিশনে ডাবিং করা বিদেশি সিরিয়াল প্রচারকে নিয়মনীতির আওতায় আনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন টেলিভিশনে যে ডাবিং করা বিদেশি সিরিয়াল প্রচার করা হয়, সেগুলোর জন্য অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। অনুমতির জন্য দরখাস্ত পড়েছে অনেকগুলো। এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যাওয়া প্রয়োজন। দু-তিন ঘণ্টার একটি ছবি যেমন মুক্তি পেতে হলে সেন্সর বোর্ড হয়ে আসতে হয়। তেমনি এসব সিরিয়াল, যেগুলোর কোনটা ৫০, কোনটা ৩০ পর্ব আবার প্রতিটি পর্ব হচ্ছে এক বা আধ ঘণ্টার পর্ব, অর্থাৎ একটি ছবি হয় দু-তিন ঘণ্টা আর এগুলো একেকটা ৪০-৫০ ঘণ্টা, সুতরাং এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া অনুমোদন দেয়া সমীচীন নয়।

ড. হাছান বলেন, সে লক্ষ্যে আমরা একটি বাছাই কমিটি গঠন করেছি। এ বিষয়ে ২৭ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের (সম্প্রচার) নেতৃত্বে এ কমিটিতে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, বিশিষ্ট নাট্যজন সারা যাকের, এটকো, ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয় শিল্পী সংঘের একজন করে প্রতিনিধি, বিটিভি ও জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের টিভি-২ শাখার উপসচিব রয়েছেন। এখন থেকে কোনো টেলিভিশনে বিদেশি কোনো সিরিয়াল যদি প্রচার করতে হয়, তাহলে এই কমিটির কাছে দরখাস্ত করতে হবে। দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, নতুন প্রজন্মের মনন তৈরিতে বা আমাদের সমাজে এর কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে কি না, বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনুমোদন দেবে কমিটি।

মোবাইল কোম্পানিগুলোর ভিডিও কনটেন্ট আপলোড প্রসঙ্গে ড. হাছান বলেন, মোবাইল কোম্পানি নানা ধরনের ভিডিও কনটেন্ট আপলোড করে ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ছে। সেখানে বিজ্ঞাপন আসছে, তারা ব্যবসা করছে। এটির লাইসেন্স তাদের দেয়া হয়নি। তাদেরকে মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এটি বন্ধ করার জন্যে ইতিমধ্যে আমরা টেলিযোগাযোগ বিভাগকে চিঠি দিয়েছি, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিষয়গুলো আলোচনা করেছি। এ ধরনের চলমানগুলোর বিষয়ে বিটিআরসি সিদ্ধান্ত নেবে। এটিকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। কারণ যে কেউ চাইলেই লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা করতে পারে না।

অনলাইন পত্রিকার ভিডিও কনটেন্ট ও টিভি চ্যানেলগুলোর অনলাইন চালাতেও অনুমতির প্রয়োজন হবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এগুলো নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। সব একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে। কারণ যিনি যেটার লাইসেন্স পেয়েছেন সেটার বাইরে যেতে পারবেন না। শুধু পত্রিকাগুলো যে অনলাইনে ভিডিও কন্টেন্ট করছে তাই নয়, টেলিভিশনগুলোও আবার অনলাইন চালু করেছে। সেটিরও অনুমতি এখন পর্যন্ত নেই। সুতরাং সবকিছুকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্যেই আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ইতিমধ্যে অনেক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ধীরে ধীরে এ ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা ইউটিউব, ফেসবুকসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করেছি যে তাদের মাধ্যম ব্যবহার করে যে ব্যবসা হচ্ছে বা বিজ্ঞাপন যাচ্ছে ট্যাক্সেশনের আওতায় আনা হবে। সেগুলোর ওপর শুল্ক ধার্যের বিষয়টা আসবে। আমরা এনবিআরের সঙ্গেও কথা বলেছি। কেউ যদি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে করে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশের আইন মেনেই করতে হবে। অনলাইন গণমাধ্যমের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এক দশকের বেশি সময় ধরে এবং এখানে আগে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। এটি করতে কিছুদিন সময় লাগে। তবে আপনারা দেখেছেন, যেগুলো একযুগে হয়নি, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা পুরো শৃঙ্খলা আনার জন্য কাজ করছি।

পরিবহন ও জ্বালানি খাতে ধর্মঘটের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান বলেন, ধর্মঘট তো বাংলাদেশে প্রথম হচ্ছে না, উন্নত রাষ্ট্রগুলোতেও ধর্মঘট হয়। তবে নানা অজুহাত-ছলছুতায় ধর্মঘট করার হুমকি বা ধর্মঘটে যাওয়া, এগুলোর পেছনে কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে কি না সেটি নিশ্চয়ই সরকার খতিয়ে দেখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com