Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

অক্সফোর্ডের করোনা টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিলো যুক্তরাজ্য

রিপোর্টারের নাম / ৯২ বার
আপডেট সময় :: বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০

দিগন্ত ডেক্স : অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্র্যাজেনেকার তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে করোনার দ্বিতীয় টিকা হিসেবে এই টিকার অনুমোদন দেওয়া হলো। এর আগে যুক্তরাজ্য ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এমনটি জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকাটির অনুমোদন যুক্তরাজ্যে করোনা মোকাবিলা টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।  সেই সঙ্গে  টিকাদান সম্প্রসারণে ব্যাপক প্রসার ঘটাবে। এর মাধ্যমে মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে  ফিরতে সহায়তা করবে জানান বিজ্ঞানীরা।

দেশটির সরকার এরই মধ্যে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের ১০ কোটিরও বেশি ডোজ অর্ডার করেছে। ৫০ মিলিয়ন মানুষের মাঝে প্রয়োগ করতে হবে। এরমধ্যে ৪০ লাখ মার্চের শেষে দেশব্যাপী জিপি সার্জারিতে পাওয়া যাবে।

যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেডিসিন্স অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ) বলছে, অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্র্যাজেনেকার তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা নিরাপদ এবং কার্যকর।

যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এই মাসের শুরুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা জরুরি ব্যবহারের জন্য এই ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের অনুমতি দেয়।

কার্যকর ও সফল টিকার দৌড়ে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল অক্সফোর্ডের টিকাটি। তবে সেপ্টেম্বরে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সাময়িক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এক স্বেচ্ছাসেবী অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে চূড়ান্ত ধাপে থাকা পরীক্ষা বন্ধ করতে হয়েছিল। গবেষকেরা পরে জানান, ওই অসুস্থতা টিকা সংক্রান্ত ছিল না। ৮ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার)  মেডিসিন জার্নাল দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন কার্যকর ও নিরাপদ।  ২৭ ডিসেম্বর (রবিবার) অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রধান বলেন, আমরা মনে করি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বাড়ানোর উইনিং ফর্মুলা পেয়ে গেছি। দুই ডোজের পর প্রায় সবার সমান কার্যকারিতা হয়ে যাবে। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারছি না। আজ (বুধবার) ব্রিটিশ ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দিয়েছে, যার মানে হচ্ছে, এটি নিরাপদ ও কার্যকর।

করোনার মহামারি ঠেকাতে চলতি বছর টিকা উদ্ভাবনে তোড়জোড় শুরু করে উন্নত দেশগুলো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে ৬০টি টিকার ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন হয়েছে এবং ট্রায়ালে আছে আরও ১৭২টি।

উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ২ ডিসেম্বর ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনার টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। ৮ ডিসেম্বর দেশটিতে এই টিকার প্রয়োগ শুরু হয়। সর্বপ্রথম এ টিকা নেন ৯০ বছরের বৃদ্ধা মার্গারেট কিনান এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম যারা গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) কর্মরত এক নার্স। সান্দ্রা লিন্ডসে নামের ওই নার্স নিউ ইয়র্ক শহরের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ১৪ ডিসেম্বর সরাসরি প্রচারিত এক ভিডিও ইভেন্টে এই টিকা গ্রহণ করেন।

প্রসঙ্গত, ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। অন্যদিকে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই সংরক্ষণ করা যাবে।

ফাইজারের মতো অক্সফোর্ডের টিকারও দুটি করে ডোজ নিতে হবে। ফাইজারের ক্ষেত্রে দুই ডোজের মধ্যে ব্যবধান তিন সপ্তাহ। অক্সফোর্ডের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান চার সপ্তাহ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com