Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

করোনার চিকিৎসায় দেশে প্রথম রেমডেসিভির উৎপাদন করল এসকেএফ

রিপোর্টারের নাম / ১৭৬ বার
আপডেট সময় :: শনিবার, ৯ মে, ২০২০

দিগন্ত ডেক্স : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর ওষুধ রেমডেসিভির উৎপাদন সম্পন্ন করেছে দেশের খ্যাতনামা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। উৎপাদনের সব প্রক্রিয়া শেষ করার পর শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে সরবরাহ করার প্রস্তুতি।

এসকেএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা দেশবাসীকে এই সুখবর দিতে চাই যে বিশ্বে করোনার একমাত্র কার্যকর ওষুধ বলে স্বীকৃত জেনেরিক রেমডেসিভির উৎপাদনের সব ধাপ আমরা সম্পন্ন করেছি।’

গত ডিসেম্বরে শেষে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর জানা যায়। প্রথমে চীনের কয়েকটি প্রদেশে, তারপর চীনের প্রতিবেশী দেশগুলোতে এবং পরবর্তীতে এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথমে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। পরে পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা দেয়। করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে প্রায় ৩৯ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ২ লাখ ৭০ হাজার।

এ অবস্থায় এসকেএফ-ই বিশ্বে প্রথম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, যারা জেনেরিক (মূল বা গোত্র) রেমডেসিভির উৎপাদন করতে সক্ষম হলো। এসকেএফের উৎপাদন করা রেমডেসিভিরের বাণিজ্যিক নাম ‘রেমিভির’। এসকেএফ জানিয়েছে, বিধি অনুযায়ী রেমডিসিভির নমুনা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অধীনস্থ ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবোরেটরিতে জমা দেওয়া হবে এবং ছাড়পত্র ও বাজারজাতের অনুমতি পাওয়ার পর কিছু দিনের মধ্যেই ওষুধটি বিতরণ শুরু করবে এসকেএফ।

সিমিন হোসেন বলেন, ‘ঔষধ প্রশাসন গত মার্চ মাসে ওষুধটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদনের পরপরই আমাদের ফরমুলেশন বিজ্ঞানীরা মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে রেমডেসিভির নিয়ে কাজ শুরু করেন। যেহেতু এটি একটি শিরায় দেওয়া ইনজেকশন, সে কারণে এর উৎপাদনে সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। দুই মাস ধরে এসকেএফ-কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এত কম সময়ে এটা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। ওষুধের মূল উপাদান সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি করে পর্যাপ্ত কাঁচামাল প্রাপ্যতা নিশ্চিত করেছি আমরা।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক বিল্লাল আলম প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ কোনো কিছুতে পিছিয়ে থাকে না, ওষুধ উৎপাদনে তো নয়ই। আশা করা যায়, বাংলাদেশ শুধু এই ওষুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে না, রপ্তানিও করবে। ওষুধটি কীভাবে কাজ করবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু হাসপাতালে ওষুধটি প্রয়োগ করে দেখা গেছে, খুবই সংকটাপন্ন রোগীর ওপর এটা কাজ করছে। রোগীরা দ্রুত হাসপাতাল ছেড়েছেন এবং ভাইরাসের ঘনত্ব ওষুধটি কমিয়ে আনতে পারছে। ওষুধটি নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য ভালো ফল দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যদিও এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী কোনো ওষুধ শতভাগ কার্যকর, এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে রেমডেসিভির ভালো কাজ করেছে।

অধ্যাপক বিল্লাল আলম আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) কোনো ওষুধের অনুমতি দিতে অন্তত ছয় মাস সময় নেয়। কিন্তু ওষুধটির কার্যকারিতা দেখে দ্রুত অনুমতি দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সীতেশ চন্দ্র বাছাড় এ বিষয়ে বলেন, রেমডেসিভির ওষুধটি ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে দারুণ কার্যকর ছিল। সার্স ও মার্স ভাইরাসের বিরুদ্ধেও এটি ব্যবহৃত হয়েছে। মূলত শ্বাসনালিতে সংক্রমিত ভাইরাসের বিরুদ্ধে ওষুধটি তার কার্যকারিতা দেখিয়েছে। এই ধারণা সামনে রেখেই এটি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। বাংলাদেশেও এটি ব্যবহারে বাধা নেই। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস শ্বাসনালিতে সংক্রমিত হয়। সেই কারণে রেমডেসিভির ব্যবহারে যে পরীক্ষাগুলো চালানো হয়েছে, তার ফলাফল আশাব্যঞ্জক। তবে এটি এখনো ‘পর্যবেক্ষণ’ ও ‘পরীক্ষামূলক’ পর্যায়ে আছে। তারপরও দেখা গেছে, এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে এমন রোগীরা অন্য রোগীর তুলনায় অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন আগে সুস্থ হয়েছেন। এটি একটি বড় ব্যাপার।

উল্লেখ্য, শিল্পপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ট্রান্সকম গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ৩০ বছর ধরে ওষুধ উৎপাদন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাইরে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশের ৩০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে আসছে।সূত্র:প্রথম আলো


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com