Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

দ্রুতই করোনা পরিস্থিতির সমাপ্তি ঘটবে: নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী

রিপোর্টারের নাম / ১৭৫ বার
আপডেট সময় :: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০

দিগন্ত নিউজ ডেক্স : বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতির দ্রুত সমাপ্তি ঘটবে বলে জানিয়েছেন নোবেলজয়ী এবং স্ট্যানফোর্ডের জীববিজ্ঞানী মাইকেল লেভিট। চীনে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি গবেষণা করে তিনি এমন কথা জানিয়েছেন জানুয়ারি থেকে তিনি করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যা নিয়ে গবষণা শুরু করেন। চীনে করোনার প্রাদুর্ভাব কমার আগেই তিনি পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে, চীনে খুব দ্রুত করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

এখন তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে একইরকম পরিণতির পূর্বাভাস দিয়েছেন। খবর লস অ্যাঞ্জেল টাইমসের। যদিও অনেক বিজ্ঞানী কয়েক মাস আগে বা কয়েক বছর আগে ব্যাপক সামাজিক ব্যাঘাত এবং মহামারিতে কয়েক মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসে তেমনটি হবে না- তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন কথা জানিয়েছেন লেভিট। তিনি বলেছেন, বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে এটি বড় কোনো সমস্যার সৃষ্টি করবে না।

লেভিট বলেন, ‘আমাদের যা দরকার তা হচ্ছে আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা ভালোর দিকে যাচ্ছি।’

লেভিট বলেন, প্রাথমিকভাবে চীনের হুবেই প্রদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার প্রতিদিন ৩০ শতাংশ হারে বাড়ছিল। কিন্তু ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আক্রান্তের সংখ্যা সরলরৈখিকভাবে কমতে শুরু করে এবং নিহতদের সংখ্যাও একইভাবে কমছিল।এভাবে লেভিট এই ‘বক্ররেখার নাটকীয় পরিবর্তনটি মধ্যবিন্দু চিহ্নিত করেছিলেন’। যার মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, পনেরো দিনের মধ্যে চীনের পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে। এখন চায়নায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। দেশটিতে রোববার নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৯, যারা বিদেশ ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন।

লেভিট বলেন, করোনা নিয়ে কথা উঠলেই এটি মানুষকে অনেক ভয় দেখায়। কারণ প্রতিদিনই তারা নতুন নতুন আক্রান্তের খবর পায়। তবে বিষয় হচ্ছে, সংক্রমণের হার ধীর হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো মহামারীটির সমাপ্তি খুব কাছাকাছি এসে গেছে। একই সঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মার্চ মাসের শেষে ভাইরাসটি চীন থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রাদুর্ভাবকে যদি উন্মুক্ত সড়কে গাড়ি চালানোর সঙ্গে তুলনা করেন তাহলে দেখবেন শুরুতে যে গতিতে চলছিল এখন সেই গতি আগের মতো নেই। এ থেকে বোঝা যায় যে, মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির হার পরের সপ্তাহের তুলনায় আরও কমবে।

লেভিট চায়না ডেইলিকে জানিয়েছিলেন, তিন সপ্তাহ পর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠবে এবং চীনে ৮০ হাজারের মতো লোক আক্রান্ত হবে এবং ৩২৫০ জনের মতো লোকের মৃত্যু হবে। তার সেই পূর্বাভাসটি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রামণিত হয়েছে।

লেভিট আরও দাবি করেন, বেশিরভাগ ব্যক্তির শরীরে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ইতিমধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের মধ্য অবস্থা অতিক্রম করেছে এবং ইতালিতে বয়স্ক জনসংখ্যার হার বেশি থাকায় দেশটিতে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।৭৮টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি বলেছেন, অবস্থা এখনো গোলমেলে কিন্তু ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতির উন্নতির সুপষ্ট লক্ষণ রয়েছে।

তিনি মানুষকে করোনায় নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। লেভিট বলেন, যারা করোনায় আক্রান্তের খবর নিজ থেকে জানাচ্ছেন তাদেরকে হিরো হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। এছাড়া এর মাধ্যমে পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে না। যতটা বলা হচ্ছে আসল পরিস্থিতি ততটা নয়।

জটিল পদ্ধতিতে রাসায়নিক ব্যবস্থাগুলির বিকাশের জন্য ২০১৩ সালে রসায়নে নোবেল পুরষ্কার পান লেভিট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com