Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

ইলিশের ভরা মৌসুমে জেলে পাড়ায় দুর্দিন

রিপোর্টারের নাম / ৩৫ বার
আপডেট সময় :: মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১

বনি ইয়ামিন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) থেকে: আষাঢ়,শ্রাবণ,ভাদ্র ও আশ্বিন। এ চার মাস গভীর সাগরে ইলিশের ভরা মৌসুম চলে। বছরের একাংশ সময় জেলেরা আশায় বুক বেঁধে থাকেন এই সময়টার। তা আর হলো কই?। একদিকে করোনা সংকট, অন্যদিকে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত গভীর সাগরে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এই দুইয়ে জেলে পাড়ায় দুর্দিন ও জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। কর্মহীন জেলেদের মানবিক সহায়তার আওতায় বিশেষ ভিজিএফ চাল বিতরণ নিয়েও আছে ক্ষোভ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে ২৩ জুলাই রাত ১২ টায়। নিষেধাজ্ঞা শেষে আশার প্রদীপ জ্বালাতে গভীর সাগরে ইলিশ শিকারে যাত্রা শুরু করে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কয়েক’শ জেলে।

ভেবেছিল নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের দেখা মিলবে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পর গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে মাছ ধরা শুরু হয়। কিন্তু নদ-নদী ও সাগরেও দেখা মিলছে না তেমন ইলিশের। সাগরে মোটামুটি ইলিশ পাওয়া গেলেও আগুনমুখা, দারছিড়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে মাছের হাহাকার। ইলিশের মৌসুমেও ইলিশ ধরতে না পারায় দুর্দিনে পড়েছেন জেলেরা। একই সঙ্গে হতাশ মাছের আড়তের মালিকরাও। সারা দিনে দুই এক ঝুঁড়ি মাছ ঘাটে আসলেও তেমন হইচই নেই চরমোন্তাজ ও কোড়ালিয়া মৎস্য ঘাটে। সেই সঙ্গে উপজেলার হাট-বাজারগুলোতেও নেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক। ফলে উপজেলার ১৩ হাজার ৮৪৭ জন নিবন্ধিত জেলেসহ প্রায় ২০ হাজার জেলে হতাশায় রয়েছেন।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশ মাছের মৌসুম পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। সে কারণেই এই ভরা মৌসুমেও ইলিশ ধরা পড়ছে না। তার মতে, বিষয়টি চিন্তার হলেও এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। জেলেদের জালে যে একদমই মাছ ধরা পড়ছে না তা কিন্তু নয়। ইলিশ ধরা পড়ছে তবে পরিমাণে কম। কোড়ালিয়ার মৎস্য ব্যবসায়ী নজরুল হাওলাদার বলেন, টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। জেলেরা সাগরে গেছে। কিন্তু ভরা মৌসুমেও তেমন ইলিশ এবার পাচ্ছে না। কোড়ালিয়া মাছঘাট এলাকার জেলে দেলোয়ার মাঝি জানায়, পাঁচ দিনের বাজার সদয় লইয়া সাগরে গেছি। বৈরী আবহাওয়ার কারনে নদীতে জাল দিতে পারিনি। পাঁচ দিনের মধ্যে দুইবার নদীতে জাল ফেলি। এতে ১৫০ পিচ ঝাটকা মাছ পাই। রসদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ঘাটে ফিরে আসি। এই মাছ বিক্রি করে চা খরচের টাকাও হবে না। এ যাত্রায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা লোকসান হইবে। একে তো সাগরে মাছ নাই তারমধ্যে আবার ঋণের টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হক বাবুল বলেন, চলতি বছরে খুব বিলম্বে বৃষ্টি হয়েছে যার ফলে ইলিশ মাছের তেমন দেখা মেলে না। বৃষ্টির পানি হইলেই মাছটা জাগে এখান বৃষ্টি হচ্ছে এখন দেখা মিলবে। বৃষ্টি যত বেশি হইবে মাছের তত দেখা মিলবে। তবে ভোলাসহ উপকূলীয় কিছু কিছু জায়গায় মোটামুটি দেখা যাচ্ছে। দেড়িতে হলেও মাছ হবে এমনটা আশা করা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com