সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন

টানা বৃষ্টি কত দিন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ পঠিত

দিগন্ত ডেক্স : দেশে কয়েক দিন ধরে টানা ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত সাত জেলার নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে লঘুচাপের প্রভাব নেই। মূলত মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বিক্ষিপ্তভাবে সারা দেশে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টিপাত আরো অন্তত পাঁচ দিন থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৬১, সিলেট বিভাগে ৯৮, খুলনায় ১২৫, বরিশালে ৩৯, ময়মনসিংহে ২১, ঢাকায় ১৮২, রাজশাহীতে ১৬৩ এবং রংপুর বিভাগে ১৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার বৃহত্তর চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি লক্ষ করা গেছে। তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি জানিয়েছে, উজানে বৃষ্টি কমে আসা, পানি নিষ্কাশনে উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ কেটে দেওয়ায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে ভারি বৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত কমে আসা সঙ্গে নিষ্কাশনে উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ কেটে দেওয়ায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। 

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছিল। বৃহত্তর চট্টগ্রামের বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে। মাতামুহুরী, সেলোনিয়া ও গোমতী নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে। হালদা, সাঙ্গু, মুহুরী ও ফেনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার বেড়ে পেয়ে বিপৎসীমার ১০৭ সেন্টিমিটার ওপরে এবং দোহাজারী পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটর কমে বিপৎসীমার ১৯ সেমি ওপরে বইছিল। মাতামুহুরী নদীর লামা ও চিরিংগা পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচে বইছিল।

সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। কুশিয়ারা নদীর সিলেট ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১১  সেন্টিমিটার বেড়ে পেয়ে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপরে এবং সুনামগঞ্জ জেলার মারকুলি পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপরে বইছিল। খোয়াই নদীর হবিগঞ্জ জেলার বাল্লা পয়েন্টে ৫৯ সেন্টিমিটার কমে এখনো ১ সেন্টিমিটার ওপরে বইছিল। মনু নদীর মৌলভীবাজার জেলার মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৪২ সেন্টিমিটার কমে এখনো বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপরে বইছিল। এ ছাড়া সারি, গোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপরে বইছিল ও নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতলে বেড়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপরে বইছিল। নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023 digantabangla24.com