শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২৪৭৮৪ শিক্ষার্থী, বহিষ্কার ৭ ডেপুটি স্পীকারের উদ্দ্যেগ : নতুন জীবন ফিরে পেলো কৃষ্ণ হাজং ডেপুটি স্পীকারের উদ্দ্যেগ : ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে ঢেউটিন, নগদ টাকা ও চাল বিতরণ এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমল ‘‘নজরুল বর্ষ’’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, দুর্গাপুর উপজেলা অন্তর্ভুক্ত বেসরকারি ঋণের লক্ষ্য কমিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে কলমাকান্দা বাজারে সিসি ক্যামেরার উদ্বোধন পুলিশের সিলেট রেঞ্জের তাহিরপুর থানার ওসিকে বদলি কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি, হাবিবসহ তিন পুলিশের মৃত্যুদণ্ড জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

ডেপুটি স্পীকারের উদ্দ্যেগ : নতুন জীবন ফিরে পেলো কৃষ্ণ হাজং

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ পঠিত

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন কৃষ্ণ হাজং। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডাক্তার জানিয়েছেন তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। তার বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত চিকিৎসা। এই কথা জানতে পেরে যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়ে কৃষ্ণ হাজংয়ের পরিবারের ওপর। পরবর্তিতে চিকিৎসার পুরো দায়িত্বনেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। চিকিৎসা চালিয়ে যান প্রায় দেড়বছর।

পরবর্তিতে পুর্নাঙ্গ সুস্থ্যতা লাভ করেন কৃষ্ণ হাজং। এরই কৃতজ্ঞতা স্বরুপ বৃহ:স্পতিবার (০২ জুলাই) বিকেলে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে, ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষ্ণ হাজং ও তার পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষ্ণ হাজং সাংবাদিকদের বলেন, আমার চিকিৎসা খরচ যোগাতে সহায় সম্বল বিক্রি করে আমরা একরকম নিঃশ্ব হয়ে গিয়েছিলাম। বেঁচে থাকার যুদ্ধে পুনরায় ঢাকায় চিকিৎসা নেয়া শুরু করি। দীর্ঘমেয়াদী এই চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিসের খরচ জোগাতে পারছিলাম না আমরা। পরবর্তিতে এই খবর পান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রায় দেড়বছর নিজ অর্থায়নে চিকিৎসা চালিয়ে আমাকে সুস্থ্য করে তোলেন তিনি।

কৃষ্ণ হাজংয়ের মা চারুবালা হাজং কান্নায় ভেঙ্গে পরে সাংবাদিকদের বলেন, আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলো আমার ছেলে কৃষ্ণ হাজং। তার অসুস্থ্যতায় আমরা মহাদুর্বিপাকে পড়েছিলাম। অর্থ সংকটে তার চিকিৎসা বন্ধ হবার উপক্রম ছিলো। অর্থাভাবে ডায়ালাইসিস করতে না পেরে ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসছিলাম। কৃষ্ণের চিন্তায় তার স্ত্রী ও এক কন্যা এবং আমি ও তার বাবা সারাদিন কান্না করছিলাম। পরবর্তিতে আমাদের প্রতি সদয় হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আমার ছেলেকে চিকিৎসা করিয়েছেন আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার তো দেয়ার কিছু নাই, আমি যতদিন বাঁচবো উনার জন্য দোয়া করে যাবো।

ছেলের জীবন বাঁচাতে আমি আমার শরীর থেকে একটি কিডনি দিয়েছি কৃষ্ণ কে। ছেলেকে সুস্থ্য করতে আমি আমার জীবনও দিতে চেয়েছিলাম। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মতো জনপ্রতিনিধির নিঃস্বার্থ আর্থিক ও মানসিক সহায়তায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে আমার ছেলে ফিরে এসেছে। এর জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সেইসাথে আমি ও আমার পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি।

এনিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, অসহায় কৃষ্ণ হাজংকে চিকিৎসা করিয়ে এলাকায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এর জন্য ওনাকে ধন্যবাদ জানাই। এই সকল মানবিক কাজ করেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে বেঁচে থাকবেন। এছাড়া ব্যক্তি উদ্দ্যেগে অসচ্ছল, হতদরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, আর্থিক অনুদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, অসুস্থ রোগীদের ও দৃষ্টিহীনদের চিকিৎসা করানো, আশ্রহীনদের জন্য ঘর বিতরণ করে সাধারণ মানুষের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন, তা আর কোন সংসদ সদস্যই করতে পারেননি। ধন্যবাদ জানাই মাননীয় ডেপুটি স্পীকার মহোদয়কে সেইসাথে স্যালুট জানাই ওনার এ ধরনের মানবিক কর্মকান্ড কে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023 digantabangla24.com