দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনমনে আস্থা ও মনোবল বৃদ্ধিতে সীমান্তের ৮কি.মি. এর মধ্যে পূজামন্ডপ গুলোতে বিশেষ টহল কার্যক্রম শুরু করেছে ৩১ বিজিবি নেত্রকোনা অঞ্চলের সদস্যরা। শনিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিভিন্ন পুজা মন্ডপ পরিদর্শন কালে কোন প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান ক্যাম্প কমান্ডার মিলাল হোসেন।
এ নিয়ে বিভিন্ন পুজা মন্ডপে গিয়ে দেখা যায়, কোনো ধরনের নাশকতা এবং সন্দেহভাজন যে কোন লোকের আনাগোনায় ৩১ বিজিবি সদা তৎপর রয়েছে। পূজামন্ডপগুলোতে বিজিবি সদস্যরা প্রায় ২৪ ঘণ্টাই টহল অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া অন্যান্য আনসার, পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও সরকারের বিশেষ গোয়েন্দা শাখার সদস্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা পূজামন্ডপ পরিচালনা কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে টহল পরিচালনা করছেন। বিজিবির এ ধরনের পদক্ষেপ দেশ ও জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে এবং মানুষের কল্যাণে সর্বদা পাশে থাকতে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার মিলাল হোসেন বলেন, দুর্গাপুজা নিয়ে কোনপ্রকার বিশৃঙ্খলা ঘটানোর চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা শুধু দুর্গাপুজাই নয় অত্র এলাকার অন্যান্য নিরাপত্তা নিয়েও সর্বদা কাজ করছি। পুজায় সনাতন ধর্ম্মালম্বীদের মাঝে গুজব ছড়িয়ে যেনো কোন প্রকার আতঙ্ক তৈরী না করতে পারে, আমরা সেইদিকে বিশেষ নজরদারী রাখছি। দুর্গাপুর এমনিতেও শান্তিপুর্ন এলাকা তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে কোন আপোষ নয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উকিলপাড়া তরুন ক্লাবের সভাপতি ধনেশ পত্রনবীশ, অর্থসম্পাদক শ্যামল রায়, মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক তোবারক হোসেন খোকন, ব্যবসায়ী সুমন রায়, পরিমল ঘোষ, আজিজুল হক প্রমুখ।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট মানেশ চন্দ্র সাহা জানান, এ বছর দুর্গাপুর উপজেলায় ৬০টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে সরকারি বিভিন্ন বাহিনী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মন্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের সাথে সব সময় যোগাযোগ করছেন। এবারের মতো নিরাপত্তা কোন সময়ই পাইনি। আশা করছি কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শারদীয় পূজা সম্পন্ন করতে পারবো।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। পুজার নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনী মাঠে রয়েছে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অফিসারদের দিয়ে নজরদারী বাড়াতে টিম করে দেয়া হয়েছে। সার্বক্ষনিক যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও সহায়তা করছেন। এখন পর্যন্ত কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি শান্তিপুর্ন ভাবেই পুজা শেষ করতে পারবো।
Leave a Reply