Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

মৃতদেহ নিয়ে পাওনাদারের বাড়িতে স্বজনরা

রিপোর্টারের নাম / ২৬৬ বার
আপডেট সময় :: রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন

দিগন্ত ডেক্স : পাওনাদারের বাড়ির দরজায় মরদেহ রেখে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য অভিনব প্রতিবাদ করেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আলীপুরের মৃত সুনীল দাসের (৫৭) পরিবারের সদস্যরা। শনিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে সুনীলের পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ নিয়ে হাজির হন পাওনাদার ইউসুফ মুসুল্লীর বাড়িতে। মরদেহ নিয়ে বাড়িতে আসার খবর পেয়ে দ্রুতই সটকে পড়ে ইউসুফ মুসুল্লী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও শতশত মানুষ ভিড় করে মুসুল্লী বাড়িতে। খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে আসলেও ইউসুফ মুসুল্লীকে না পাওয়ায় দুপুর পর্যন্ত এভাবেই পড়ে থাকে সুনীল দাসের মৃতদেহ।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি মানবিক। দ্রুতই মরদেহ সৎকার ও ঘটনা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মৃত সুনীল দাসের স্ত্রী মাদুরী দাস বলেন, কয়েক বছর আগে নয় লাখ টাকা দিয়ে তার স্বামী আলীপুরের ইউসুফ মুসুল্লীর কাছ থেকে তিন শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু অনেকদিন চলে গেলেও তাদের জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। এক পর্যায়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়েন সুনীল দাস। এতে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন।

এ সময় সুনীল দাস টাকা ফেরত চাইলে ইউসুফ মুসুল্লী জমি বা টাকা না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে। এনিয়ে দুই বছর আগে স্থানীয় লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদে একাধিক সালিশ বৈঠক হয়। সালিশে ইউসুফ মুসুল্লী আট লাখ দেয়ার দাবি করলেও, দুই বছরেও টাকা পাননি সুনীল।

ক্যান্সার আক্রান্ত সুনীল বিনা চিকিৎসায় গত শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাতে বাড়িতে মৃত্যুবরণ করে। তাই পরিবারের সদস্যরা টাকা আদায় ও এই মৃত্যুর জন্য ইউসুফ মুসুল্লীকে দায়ী করে সুনীলের মরদেহ তার বাড়ির সামনে রেখে প্রতিবাদ করেন।

লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আনছার মোল্লা জানান, দুই বছর আগে তিনি এ বিষয়টি নিয়ে সালিশ করেছিলেন। সালিশে ইউসুফ মুসুল্লী টাকা পাওনার বিষয়টি স্বীকার করে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে সাত লাখ টাকা ও ১৫ দিনের মধ্যে নগদ এক লাখ টাকা বিষয়ে একমত হন।

কিন্তু, এখন পর্যন্ত টাকা পরিশোধ না করায় সুনীলের পরিবার টাকা আদায়ের জন্য তার মৃতদেহ ইউসুফের বাড়ির সামনে রেখে দেয় ।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি শোনার পরই তারা ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষের সাথে কথা বলেছেন। ইউসুফ মুসুল্লীর পরিবার টাকা পাওনার বিষয়টি স্বীকার করে আপাতত কিছু টাকা দিতে রাজি হয়েছেন। তাই মৃতের স্বজনদের সাথে কথা বলে মরদেহ সৎকারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আর মৃতের স্বজনরা যদি তাদের কাছে আইনগত সহায়তা চান তাহলে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মহিপুর থানা পুলিশকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলেছেন।

সেক্ষেত্রে মৃতদেহ সৎকারের খরচ প্রশাসন বহন করবে। আর টাকা পাওনার বিষয়টি দু’পক্ষের সাথে কথা বলে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com