Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস ও আমাদের ভাবনা

রিপোর্টারের নাম / ২২২ বার
আপডেট সময় :: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০

তোবারক হোসেন খোকন : আজ ১৫জুন, বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। প্রবীণদের নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।বুঝতে হবে তাদের কষ্ট, মিশে যেতে হবে তাদের সাথে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ ভাগ। স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন এবং শিশু জন্মের হার কম হবার কারণে বিশ্বব্যপি প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। হেল্পএইজ ইন্টারন্যাশনাল এর তথ্য অনুসারে বর্তমানে বিশ্বব্যাপি প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন মানুষ প্রবীণ বা ৬০ অথবা এর উর্ধ্বে বয়সের, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮%. এই প্রবীণ সংখ্যা ২০৩০ সাল নাগাদ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১.৬ বিলিয়নে। ২০৫০ সাল নাগাদ ৬০ বা তার উর্ধ্বের বয়সের প্রবীণ সংখ্যা ১৫ বছরের শিশুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে। এই জনসংখ্যাতাত্তি¡ক অতি দ্রুত পরিবর্তন উন্নয়নশীল দেশেগুলোতেই সম্পন্ন হচ্ছে। ২০৫০ সাল নাগাত প্রতি ১০ জনে ৮জন হবেন ৬০ বা তার উধ্বের বয়সের মানুষ। এটি লক্ষনীয় যে, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির প্রবনতার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জন্য ঝুঁকির আশংকাও বাড়ছে। বর্তমানে এই ৬০ উর্ধ্বো দ্রুততম এই বর্ধনশীল জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক, সামাজিক, স্বাস্থ্য, পেশা, মর্যাদা, বিনোদনসহ জীবন ধারনের নানান সমস্যায় সম্মুখীন হচ্ছে।

প্রবীণ বয়স কে এখনও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেই বিবেচনা করা হয়। বার্ধ্যক্য বা প্রবীণত্ব তরুণ প্রজন্মের জন্যেও একটি অন্যতম ইস্যু। একটি দেশের আজকের তরুণ প্রজন্ম আগামি দিনের প্রবীণ। একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং নিরাপদ প্রবীণ জীবন নিশ্চিত করবার জন্য বিভিন্ন নীতি নির্ধারন তরুণ প্রজণে¥র উদ্বেগের মূল বিষয় হওয়া উচিত। কারন তারাই পরবর্তীতে সুদীর্ঘ ও অধিক সুবিধা উপভোগ করবে।

বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ সচেতনতা দিবসটি জাতিসংঘের আওতায় বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) এবং আন্তর্জাতিক প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক উদ্যোগে সর্বপ্রথম ২০০৬ সাল থেকে ১৫ জুন বিশ^ ব্যাপি পালিত হচ্ছে আসছে। এই দিবসটি পালনের উদ্যোশ্য হলো বিশ^ব্যাপি প্রবীণ নির্যাতন ও অবহেলা সম্পর্কে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, জনসংখ্যাতাত্তি¡কভাবে জনগণকে সচেতন করা। এই দিবসের মাধ্যমে প্রবীণদের শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী করা। আসুন, প্রবীণদের জন্য তথা নিজের ভবিষ্যতের জন্য একটি নিরাপদ ও কাংঙ্খিত জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরী করি।

হেল্পএইজ ইন্টারন্যাশনাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “পপুলেশন সাইন্স” বিভাগ যৌথ এক গবেষনায় ঢাকা শহরের পরিবারে প্রবীণ নির্যাতনের যে ধরনগুলো পাওয়া যা তা ভয়ঙ্কর। গবেষনায় মূলত: চার ধরনের নির্যাতন চিত্র পাওয়া যায়- (০১) শারীরিক নির্যাতন (০২) মানসিক নির্যাতন (০৩) অবহেলা জনিত নির্যাতন এবং (০৪) অর্থনৈতিক নির্যাতন। এই গবেষনা আরও পাওয়া যায় যে অধিকাংশ প্রবীণ এক সাথে একাধিক নির্যাতনেরও শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশে পুরুষ প্রবীণদের চেয়ে নারী প্রবীণ অধিক নির্যাতনের শিকার বলে এই গবেষনা কর্ম ইঙ্গিত প্রদান করেছে।

সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রণীত আইন ২০১৩ এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে- “প্রত্যেক সন্তান
পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে, মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ভরণ পোষণ প্রদানে বাধ্য থাকবে।” আইন অনুযায়ী, কোন সন্তান যদি তার পিতা-মাতাকে খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বসবাসের সুবিধা এবং সঙ্গ প্রদান না করেন, আইনের ৫ নং ধারা অনুযায়ী উক্ত অপরাধের জন্য অর্নুধ এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উক্ত অর্থদন্ড অনাদায়ে অনুর্ধ¦ তিন মাস কারাদন্ডে দন্ডিত হবে।

দেশে প্রবীণ জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে দারিদ্রতা ও দুঃস্থতা। কারণ প্রবীণ ব্যক্তি বেশী পরিশ্রমের কাজ করতে পারে না সেহেতু যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কাজ করায় সে বা তারাও কায়িক পরিশ্রমের কাজের জন্য তরুণকে নেওয়াটাই শ্রেয় মনে করে। বাংলাদেশে অবসরে যাওয়ার সময়সীমা বর্তমানে ৫৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়েছে। কিন্তু ৫৯ বছর বয়সেও মানুষ দৈহিক-মানসিকভাবে কর্মক্ষম থাকে। কিন্তু কাজ থেকে অবসরে গেলেই মানুষ মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে তার ওপরে পরিবারের অবহেলা, একাকীত্ব তাকে শারীরিকভাবেও দূর্বল করে, করে অবসাদগ্রস্থ। অনেক পরিবারে বয়স্ক মানুষটি ভালোবাসা পায় না। পায় না একটু সম্মান। যদি বয়স্ক মানুষটি ভালোবাসা পান, পান সম্মান তবে তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক, মানসিক কর্মক্ষমতা বোধ ও তাঁদের মননশীলতা ধরে রাখতে পারেন।

বর্তমানে সারাদেশে করোনা ইস্যুতে প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ, দারিদ্রমুক্ত, কর্মময়, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ সামাজিক জীবন নিশ্চিত করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩ এবং পিতামাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩ ঘোষনা করেন। ২০১৪ সালে বর্তমান রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রবীণ নাগরিকদের সিনিয়র সিটিজেন বা জেষ্ঠ্য নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন। সরকার প্রবীণদের এই সমস্যা সমাধানের জন্য সকল প্রবীণদের জন্য সার্বজনীন পেনশন স্কীম চালু করলে এবং প্রবীণদের অধিকার বিষয়ে জন সচেতনতার মাত্রা বৃদ্ধি করলে তাদের প্রতি সব রকমের বৈষম্য, নির্যাতন ও বন্ধ হওয়ার একটি রাস্তা খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

এরই প্রেক্ষিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশকিছু বিষয় গুলো দেখভাল করতে হবে। করোনা বা অন্য কোন রোগে প্রবীণগন আক্রান্ত হলে অন্যান্যদের পাশাপাশি সরকারী হাসপাতাল বা অন্য কোন ক্লিনিকে দ্রুত প্রেরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের খাবার দাবারের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে। আমরা বেঁচে থাকলে অনেক খেতে পারবো, কিন্ত আমাদের ঘরে যে বটবৃক্ষ (বাবা-মা) রয়েছে তাঁদের সঠিক সময়ে খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে, সকল কাজে প্রবীণদের পরামর্শ নিতে হবে। সংসারে তাদের বোঝা মনে করে বৃদ্ধশ্রমে না পাঠিয়ে নিজ গৃহেই সুন্দর আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। আসুন আমরা সচেতন হই। প্রবীণদের সেবা করি, পাশাপাশি অন্যদেরও এ কাজ গুলো করতে সহায়তা করি। হাসপাতাল, বাস, ট্রেন সহ সকল যোগাযোগে প্রবীণদের অগ্রাধীকার দিতে সকলকে উদ্ভুদ্ধ করি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com