Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

বিলুপ্তির পথে দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী মহাশোল মাছ

রিপোর্টারের নাম / ৮৯ বার
আপডেট সময় :: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কংস নদ ও সোমেশ্বরী নদীতেই দুঃপ্রাপ্য মহাশোল মাছের আবাসভুমি। মহাশোল মাছটিকে অনেকেই মহাশের, মাশোল, টর, চন্দনা প্রভৃতি নামে ডেকে থাকে। মহাশোলের দুটি প্রজাতি। একটির বৈজ্ঞানিক নাম  Tortor অন্যটি Torputitora আমাদের দেশে এ দুই প্রজাতির মহাশোলই পাওয়া যায়। নদীর পাথর-নুড়ির ফাঁকে ফাঁকে ‘পেরিফাইটন’ নামের এক রকমের শ্যাওলা জন্মে। এগুলোই মহাশোলের প্রধান খাদ্য। মহাশোল সাধারণত ৫২ সেন্টিমিটার লম্বা ও নয় কেজি পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে। এর দেহ লম্বা, মুখ অধোমুখী, মাথা অপেক্ষাকৃত ছোট। দেহের বর্ণ উপরের দিকটা বাদামী সবুজ, পেটের দিকটা রূপালী এবং পিঠের পাখনা লালচে বর্ণের হয়ে থাকে। মহাশোল দেখতে খুব সুন্দর, অনেকটা মৃগেল মাছের মতো। আমাদের মিঠাপানির মাছের মধ্যে মহাশোল স্বাদেও সেরা। স্থানীয় প্রবীণ ব্যাক্তিরা বলেন, সুসঙ্গ দুর্গাপুরে ঐতিহ্যবাহী নানিদ ও মহাশোল মাছ ছাড়া নতুন জামাইকে বরন করা হতো না। শহরের কোন গুরুত্বপুর্ন মেহমানকেও মহাশোল মাছ ছাড়া আপ্যায়ন ঐতিহ্যগত ভাবেই মানা হতো।

এ বিষয় নিয়ে রোববার বিকেলে মাছ চাষী ইন্দ্র মোহন জানান, দুর্গাপুরে সোমেশ^রী নদীর মহাশোল মাছের উৎস মুখ গুলো বন্ধ রয়েছে। শুকনো মৌসুমে কংশ ও সোমেশ^রী নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বসবাস ও বংশবৃদ্ধির জায়গা নষ্ট হওয়ার ফলে মহাশোল মাছ প্রাপ্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বর্তমানে কোন কোন সময় পাওয়া গেলেও তাহা তিন থেকে চার হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। সোমেশ্বরী ও কংস নদী ছাড়াও আশপাশের হাওর, বিল-ঝিল বা অন্য কোনো মিঠা পানির নদ-নদীতেও হঠাৎ দেখা পাওয়া যায় মাছের রানী মহাশোল এর। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে জীবজগতের স্বাভাবিক আচরণগত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন আসায় মাছের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

চকলেঙ্গুরা গ্রামের মাছ ব্যাবসায়ী মোহাম্মদ আলী জানান, পুকুরে মহাশোলের চাষ সফল না হওয়ার মুল কারন হচ্ছে, পুকুরে মাছটির বৃদ্ধি খুবই ধীর গতিতে। গতবছর আমরা পোনা ছেড়ে দেখেছি, দুই থেকে দেড় বছরে মাত্র দেড় কেজি ওজন হয়েছে। যে কারণে স্থানীয় জেলেরা বাণিজ্যিকভাবে পুকুরে মহাশোল চাষে আগ্রহ দেখায়না। তবে সবকিছু কেবল বাণিজ্যিক ভাবে দেখবো তা নয়, আমাদের দুর্গাপুরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেও মাছটি চাষ করে এ প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদেরই।

মৎস খামার ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, এই মাছের বংশ বিস্তারে সরকারী ভাবে উদ্দ্যোগ নিতে হবে। নইলে বিলুপ্তই হয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী মহাশোল মাছ। সোমেশ্বরী নদীতে অপরিকল্পিত ভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের কারনে নদীর জলজ উদ্ভিদ গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলা ড্রেজারের প্রপেলারের আঘাত ও সেলো মেশিন গুলো থেকে নির্গত পোড়া মবিল পানিতে সংমিশ্রনের কারনে নদীগুলো থেকে মূল্যবান নানিদ, মহাশূল ও লাচু মাছ গুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ সকল মাছ গুলোর বংশ বিস্তারে নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।

এনিয়ে দুর্গাপুর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা সুমন কুন্ডু এ প্রতিনিধি কে বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী মাছ মহাশোল। অত্র অঞ্চলের নদী গুলোতে এর বংশ বিস্তারের স্থল। নানা সমস্যার কারনেই নদী গুলোতে এখন আর বংশ বিস্তার করতে পারছে না মহাশোল মাছ। তবে মহাশোল মাছের বংশ বিস্তারে নতুন নতুর উদ্ভাবনে ময়মনসিংহে মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র কাজ করছে প্রতিনিয়ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com