Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

দুর্গাপুরে সীমান্তবর্তী আদিবাসী জনগোষ্ঠী বর্ডার হাট চান

রিপোর্টারের নাম / ২৮৭ বার
আপডেট সময় :: শুক্রবার, ১৯ মার্চ, ২০২১, ৯:৪১ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাস করা আদিবাসী নারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়-বিক্রয় করেই চলছে তাঁদের জীবন। এ কষ্ট থেকে পরিত্রানের জন্য সীমান্তবর্তী হাট চান পাহাড়ী আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা।

এ নিয়ে শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এপারে বাংলাদেশের উত্তর ভবানীপুর গ্রাম, ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বাঘমারা উপ-শহর। দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম দুইটির আশপাশে দীর্ঘদিন কোনো বর্ডার হাট না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে যেতে হতো দূরের কোনো গঞ্জে বা শহরে। এ দুর্ভোগের কারণে এসব এলাকার সীমান্তে চোরাচালানের ঘটনাও বেড়েছিল অস্বাভাবিক হারে। কিন্তু সে দুর্ভোগ বা চোরাচালানের দৃশ্যপট এখন সবই পাল্টে গেছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে শাকসব্জি, মাছ, মুরগী, বুট, কাচা সুপারী, সিগারেট আর ওপার থেকে বিস্কুট, চিনি, ডাল, লবন, কসমেটিক ও জিরা আনা নেয়ার কাজ করে কোন রকম দিন পার করছে স্থানীয় আদিবাসী মহিলারা। আদিবাসী মহিলা প্রেমলা হাজং বলেন, ‘‘মলা তো গুরিব মানুষ, উন্য বিবুসা কুরিবো ট্যাংকা কুবায় পায়’’ (আমরা গরীব মানুষ, জীবন জীবিকার জন্য অন্য ব্যবসা করতে টাকা কোথায় পাবো) মাঝে মধ্যে খুব কষ্টে পড়তে হয় আমাদের, ওপারের দোকানীরা সুযোগ বুঝে আমাদের মাল গুলো বাকিতে রাখতে চায়, আমরা একদিন কাজ না করলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়। বেঁচাকেনা শেষে কোন দিন ৫শ কোন দিন ৪শ টাকা লাভ হয়। এ দিয়েই কোন রকম চলে আমাদের সংসার। মাটি কাটার কাজে মহিলা শ্রমিকদের চেয়ে পুরুষদের চাহিদা বেশী থাকায় আমরা এ ব্যবসা করছি। মালামাল পারাপারের জন্য কাউকে কোন টাকা দিতে হয় কিনা জিজ্ঞাসা করলে জানান, আগে এক টুকরী প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তে ১শ টাকা দিতে হতো, এখন ওদের চোক ফাঁকি দিয়েই আমাদের জীবিকা নির্বাহ করছি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজিবি বলেন, আমরা অত্যন্ত সতর্কভাবে সীমান্তে টহল দিচ্ছি, আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় আদিবাসীরা জীবন জীবিকার তাগিদে যে কাজটি করে খাচ্ছে, তা দোষের কিছু নয়। তবে কোন প্রকার মাদক পেলে কাউকে ছাড় দেই না। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছি।

এনিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব-উল-আহসান এ প্রতিনিধি কে বলেন, আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি, বর্ডার হাট ও অত্র এলাকা দিয়ে এলসি খোলা সহ নানা বিষয়ে ইতোমধ্যে দু‘দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক ও কাগজপত্র দেয়া নেয়া হয়েছে বলে জেনেছি। আশাকরি অল্প কিছু দিনের মধ্যে এসব প্রস্তাবনা গুলো বাস্তবায়িত হবে। এতে সীমান্তবর্তী খেটে খাওয়া আদিবাসী শ্রমিকদের দুর্দশা কিছুটা হলেও লাঘব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com