Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

দুর্গাপুরে তাবলীগের সাথীদের জঙ্গী ও চোর বলায় আলেম সমাজে ক্ষোভ

রিপোর্টারের নাম / ১২০১ বার
আপডেট সময় :: মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:৫৫ অপরাহ্ন

দুর্গাপুর(নেত্রকোণা)প্রতিনিধি : ইসলামের তাবলীগের জামাতের সদস্যদের জঙ্গি ও চোর বলে বিরূপ মন্তব্য করেছেন বলে নেত্রকোণার দুর্গাপুরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে‘র স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মামুনুর রহমান এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে তাবলীগ জামাতের দুজন সদস্য তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতে গেলে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ওইদিন সকালে পৌরশহরের শিবগঞ্জের এক জামে মসজিদে তিনদিনের জামাতের কার্যক্রম শেষ করে ১৫ সদস্যের চিল্লার সাথীদের নিয়ে হাসপাতাল জামে মসজিদে অবস্থান নেয়। মসজিদে থেকে ইসলামের দাওয়াতের কাজ করার জন্য হাসপাতালের ওই কর্মকর্তার সাথে অনুমতির নিতে গেলে এই হেনস্থার শিকার হন তারা। সেইসাথে বিকেলের মধ্যে হাসপাতাল মসজিদ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন হাসপাতাল মসজিদ কমিটির সভাপতি ডাক্তার মো. মামুনুর।

গত ২০ আগস্ট বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা থেকে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সহ বিভিন্ন পেশার ১৫ জনের একটি তাবলীগ জামাত ঢাকার কাকরাইল মসজিদে অবস্থান শেষে দিনের দাওয়াত দেয়ার জন্য পরদিন কাকরাইল থেকে ৪১ দিনের চিল্লার জন্য নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পাঠান তাদের। ২১শে আগস্ট মধ্যরাতে দুর্গাপুর উপজেলার মার্কাজ মসজিদে এসে অবস্থান শেষে তিনদিনের ইসলামী দাওয়াতের কাজে পৌর শহরের শিবগঞ্জ ও কুল্লাগড়া ইউনিয়নের ৬ মসজিদে ১৮ দিন অবস্থান করেন তারা। ওই এলাকার কার্যক্রম শেষে হাসপাতাল মসজিদে অবস্থান নিলে চোর ও জঙ্গী বলে অপবাদ দিলেন ডা. মামুনুর। হাসপাতাল মসজিদ ছাড়াও উপজেলার আরো ০৭টি মসজিদে মোট ৪১ দিন অবস্থান শেষে নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। এ বিষয়টি জানাজানির পর থেকেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে উপজেলার আলেম-উলামা ও স্থানীয় মুসল্লিদের মাঝে। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ এই কাজ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন সকলেই।

ঘটনাটি শোনার পর স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে কথা কথা বলতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মামুনুর রহমানের কার্যালয়ে গেলে অফিস চলাকালীন সময়ে অফিস বন্ধ করে এক ক্লিনিকে রোগি দেখার কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবুও ব্যক্তিগত ওই চেম্বারে গিয়ে তাবলীগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের কারন জানতে চাইলে ডাক্তার মামুনুর রহমান বলেন, তাবলীগ জামাত হাসপাতাল মসজিদে থাকার কোন সুযোগ নাই। তাবলীগ জামাতের অনেক ইতিহাস আমার জানা আছে। সারাটাজীবন গেছে উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে চাকরি করে। এখানে প্রথমে তারা অনাচার করে, মসজিদের বাথরুম নষ্ট করে রাখে। সেইসাথে আমাদের কিছু জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে বিগত সময়ে। এছাড়া কিছু কিছু লোক থাকে যারা জঙ্গি সংগঠনের সাথে রিলেটেড থাকে। যারা কিনা জঙ্গী তৎপরতা সহ বিভিন্ন ইনফরমেশন পাচার করে। এইসব কারণে আমি হাসপাতাল মসজিদে তাবলীগ জামাতের থাকার কোনো অনুমতি দিতে পারব না।

হাসপাতাল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান জানান, হাসপাতাল মসজিদে এর আগেও অনেক তাবলীগ জামায়াতের সাথী ভাইরা এসেছেন। সবাই সুশৃংখলভাবে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে ফিরে গেছেন। কখনোই হাসপাতালে কোন মালসামানা কিংবা ছোটখাট জিনিস চুরি হয়নি।

তাবলীগ জামাতের সদস্য ও আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কে এম আজাদ রহমান জানান, ইসলামের দাওয়াতের কাজে নিজেদের মনোনিবেশ করতে গত মাসের ২০ তারিখ এক চিল্লায় আমরা বাড়ি থেকে বের হয়েছি। ঢাকার কাকরাইল মসজিদে আসার পর আমাদের নেত্রকোণার দুর্গাপুরে পাঠিয়েছে হুজুররা। এখানে আসার পর ৬টি মসজিদে তিনদিন করে ১৮ দিন থাকার পর আজ ৭ম মসজিদ হিসেবে হাসপাতাল মসজিদে অবস্থান নিয়েছি। আসার পর আমাদের দুজন সাথি ভাই হাসপাতালে দাওয়াত দিতে গেলে তাদের জঙ্গি বলে বিরূপ মন্তব্য করে আমাদের বিকেলের মধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন ডাক্তার মামুনুর। স্থানীয় কয়েকজনের আশ্বাসে এখন আমরা এই মসজিদেই অবস্থান করে করছি। আমাদের জামাতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। ডাক্তার সাহেব এর এমন মন্তব্য আমাদের সকল সাথীদের মর্মাহতই করেননি বরং ইসলামের দাওয়াতের কার্যক্রমকে ব্যহত করেছেন।

উপজেলা তাবলীগ জামাতের জিম্মাদার হাফেজ মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, বিষয়টি আমাদের ওই ভাবে জানা ছিলো না। এখন বিষয়টা আমরা জেনেছি। যদি ডাক্তার সাহেব এই কথা বলে থাকেন তাহলে তিনি অনেক অন্যায় করেছেন। এই কথার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য ডাক্তার সাহেব কে যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হবে আলেম সমাজের কাছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com