Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

দুর্গাপুরে জীবিত থেকেও মৃত তালিকায়, সরকারি নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত

রিপোর্টারের নাম / ১১৯ বার
আপডেট সময় :: সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬:০৮ অপরাহ্ন

দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি : নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুর। এই উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বারইকান্দি গ্রামে বাস করেন ওই চার বাসিন্দা। পাহাড় ও সমতল ভূমি অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ প্রায়ই কৃষিকাজ পরিচালনায় ব্যাংক কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে করে থাকেন চাষ-আবাদ। কিন্তু জাতীয় পরিচয় পত্রের ক্রটিজনিত কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

এনিয়ে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে কথা বলতে গেলে সুবিধা বঞ্চিতরা এ প্রতিনিধি কে জানান, ওই গ্রামের একজনের নাম জামাল মিয়া (৪৫)। গ্রামে ছোটখাটো একটি ব্যবসা করেন। গত ১০ বছর ধরে জাতীয় পরিচয়পত্রে মৃত তিনি। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকের ঋণের আবেদন করেও মৃত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এই সেবা পাননি তিনি। গ্রামের একটি স্কুলে পড়াশোনা করে তার সন্তান। স্কুলের ভর্তি কিংবা রেজিস্ট্রেশন এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও তার আইডি কার্ড ফিরিয়ে দিয়েছেন শিক্ষক। বাধ্য হয়ে তার স্ত্রীর আইডি কার্ড দিয়ে সন্তানের নাম রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়েছে।

জামাল মিয়ার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে থাকেন ৫৪ বছর বয়সী ইদ্রিস আলী। দুই কন্যা সন্তান ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছেন। চাকরির ইন্টারভিউতে বাবার আইডি কার্ড স্থাপন করতেই পড়েন বিরম্বনায়। বাবা জীবিত অথচ আইডি কার্ডে লিখা আছে মৃত।

একই গ্রামের বাসিন্দা সুবহান মিয়া। নিজেকে জীবিত প্রমাণে বারবার উপজেলা নির্বাচন অফিসে কাগজপত্র নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে এখন কাগজপত্র হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। ২০০৯ সালে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের সময় পাশের গ্রামে একই নামের আরেক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর শুনে মৃতদের তালিকায় ঢুকে যায় তার নাম। এরপর থেকেই তার এই ভোগান্তি। ভাঙ্গা-চোরা বাড়ি মেরামত করতে জমিও বিক্রি করতে পাচ্ছেন না তিনি। তাই বাধ্য হয়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে থাকছেন ভাঙ্গা ঘরে।

অপর এক বাসিন্দা আছিয়া খাতুন। গত ইউপি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি তিনি। কাগজপত্র সমস্যা ভেবে বিষয়টি তখন এড়িয়ে গেলেও সম্প্রতি মৃতদের তালিকায় তার নামের বিষয়টি সামনে এসেছে। ৫৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা স্বামী মারা গেছে অনেক আগেই। বারবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও পাননি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড। করোনা কালীন সরকারের প্রনোদনা হিসেবে ১০ টাকা কেজি দরের চালও কিনতে পারেনি তিনি।

তাদের অভিযোগ তথ্য সংগ্রহকারীরা সঠিকভাবে তথ্য যাচাই করেননি। তথ্য সংগ্রহ করার সময় তাদের কারো বাড়িতে আসেননি তথ্যসংগ্রহকারী স্থানীয় এক শিক্ষক। মনগড়া তথ্য দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। ২৭৮.২৮ বর্গ কিলোমিটারের দুর্গাপুর উপজেলায় মোট জনসংখ্যা রয়েছে দুই লাখ ২৪ হাজার আটশ’ ৯৩ জন। উপজেলায় স্মার্ট জাতীয় পরিচয় পত্র দেওয়া হয়েছে এক লক্ষ ৫১ হাজার চারশ’ ১৮ জনকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জীবিত থেকেও মৃতদের তালিকায় নাম রয়েছে অন্তত একশত জনের। এছাড়া দ্বৈত ভোটারও রয়েছে আরও আট শতাধিকের মতো। নাম সংশোধনের পাশাপাশি এ ধরনের সমস্যা গুলোও সমাধন করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সুবিধাবঞ্চিতরা।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারহানা শিরিন এ প্রতিনিধি কে বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় মৃত ব্যক্তিদের নাম কর্তন করে নিয়ে আসে। ওই সময় দেখা যায়, কিছু ভুল তথ্যের কারণে জীবিত ব্যক্তিদের নাম মৃতদের তালিকায় চলে যায়। এইসব ক্ষেত্রে নির্বাচন অফিসে এসে নতুন করে আবেদন করলেই আমরা তাদের আবেদনগুলো যাচাই বাছাই করে সমস্যাগুলো আইডেন্টিফাই শেষে পাঠিয়ে দেই। নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক আবেদন করলে যতদ্রæত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com