Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

দুর্গাপুরে কিশোরী খুনের ৫দিনের মধ্যে আসামী গ্রেফতার

রিপোর্টারের নাম / ৫৫৩ বার
আপডেট সময় :: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০

দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিখোঁজের একদিন পর আফসানা আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই কিশোরীকে তার বোন জামাই আবুল কাশেম (৩০) ধর্ষনের পর হত্যা করে পাহাড়ের গর্তে ফেলে দেয়। দুর্গাপুর থানায় বুধবার রাতে ১৬৪ ধারার জবান বন্ধিতে আবুল কাশেম এ সকল তথ্য দিয়েছে বলে জানান ওসি মিজানুর রহমান।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওসি মিজান এ প্রতিনিধি কে বলেন, নিহত আফসানা আক্তার দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের দিনমজুর আবু ছালেকের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। গত বুধবার সকালে পাহাড়ে কচুর লতি সংগ্রহ করতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সবখানে খুঁজেও আফসানাকে না পেয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশকে জানানো হয়। পরদিন স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর আসে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে পাহাড়ের গর্তে মুখে কাপড় গুজা অবস্থায় একটি লাশ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে দুর্গাপুর পুলিশ বৃহ:স্পতিবার রাত ৯টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসে শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

ওসি তদন্ত ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মীর মাহবুব বলেন, পুলিশের উর্দ্ধতন মহলের দিক নির্দেশনা ও থানার অন্যান্য চৌকশ অফিসারদের সহায়তায়, বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানে বুধবার ওই কিশোরীর বোন জামাই আবুল কাশেম কে গ্রেফতার করলে ১৬৪ ধারার জবান বন্ধিতে কাশেম জানায়, গত বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে আফসান পাহাড়ে কচুর লতি সংগ্রহ করতে গেলে কাশেম দুর থেকে তা দেখতে পায়। কাছে গিয়ে নানা অজুহাতে শ্যালিকার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। আফসানাকে বিয়ে করে দুরে কোথায় চলে যাবে মর্মে তাকে কয়েকবার ধর্ষন করে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলে আফসানা কে আপাতত বিয়ে করবে না বলে জানালে ওই কিশোরী বিষয়টি বুঝতে পেরে ধর্ষনের বিষয়টি বাড়ীতে জানাবে বল্লে কাশেম এর সাথে তর্ক বেঁধে যায়। সুযোগ বুঝে আফসানাকে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আফসানার হত্যা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নাকে-মুখে কাপড় গুজে হত্যা নিশ্চিত হলে লাশ পাহাড়ের গর্তে ফেলে গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে স্থান ত্যাগ করে।

এ নিয়ে মেয়েটির বাবা থানায় একটি অভিযোগ করলে পুলিশের উর্দ্ধতন মহলের তত্বাবধানে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদা শারমীন নেলী, জেলা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে নানা অভিযান ও তথ্য মতে শিশ্চিত হয়ে আবুল কাশেম কে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, হত্যা ও লাশ গুমের অপরাধে দুর্গাপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রেরণ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

এ হত্যাকান্ডের বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী ও উপজেলা পূজা উৎযাপন কমিটির আহবায়ক মানেশ চন্দ্র সাহা বলেন, এত অল্প সময়ে এ হত্যা কান্ডের জট খুলবে ভাবতে পারিনি। আমরা দুর্গাপুর থানা পুলিশ ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সহ সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com