Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

দুর্গাপুরের শিক্ষার্থী মাহবুবু, বোর্ড পরীক্ষা না দিতে পেরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে

রিপোর্টারের নাম / ৩০৮ বার
আপডেট সময় :: মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি : কঠোর পরিশ্রম ও মেধা খাটিয়ে পড়াশোনা করেও এখন পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী মাহাবুব রহমান। সে দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের গোদারিয়া গ্রামের কৃষক আবু সিদ্দিকের ছোট সন্তান।

দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও নিয়মিত কলেজের সকল ফ্রি, রেজিস্ট্রেশন ফি সহ কলেজের পাওনা পরিশোধ করেছেন তিনি। কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে দুই বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর। কলেজ কর্তৃপক্ষ অথবা কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের ভুলের কারণে মাহাবুব পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না। এর দায় নেবে কে ?

এবিষয়ে মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট নিয়ে ভর্তি হন ঝানজাইল কারিগরি কলেজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। কম্পিউটার ট্রেডে ভর্তির পরপরই কিনেছেন সকল বই। ভালো রেজাল্টের আশায় নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতির পাশাপাশি রাত-দিন পরিশ্রম করছেন দরিদ্র বাবার ছেলে মাহাবুব। তার এই অক্লান্ত পরিশ্রম আর কৃষক বাবার স্বপ্ন যেন কোন কাজেই আসছে না। সহপাঠীরা নিয়ম-মাফিক বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিলেও গেল দুই বছরে পরীক্ষায় বসতে পারেননি মাহাবুব।

২০২০ সালে এইচএসসি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রথম বর্ষের পরীক্ষার প্রস্তুতি কালীন ফরম পুরনের তালিকায় তার নাম না আসায় বিষয়টি প্রথম জানতে পারেন ওই শিক্ষার্থী। এ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও কেটে যায় এক বছর তার উপর আবার মহামারী করোনার থাবা। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলেন, দ্বৈত ভর্তির কারণে হয়তো এই সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছ থেকে এক বছরের সময়ও চেয়ে নেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের ফেব্রæয়ারি মাসে মাহবুর সহ আরো দুই শিক্ষার্থীর একই সমস্যার কথা জানিয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন শাখায় একটি আবেদন করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পুরণের তালিকা প্রকাশের পর জানা যায়, এবারও তালিকায় নাম আসেনি মাহবুবের। পরপর দুই বছর একই সমস্যা সৃষ্টি হতে দেখে হতবাক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী। বোর্ডের সমস্যার কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে এবারও পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ আবুল বাশার।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহাবুব রহমান বলেন, দুই বছর যাবত আমার গুরুত্বপুর্ন সমস্যার কোন সমাধান না দিয়ে আমাকে ঘুরাচ্ছে। কলেজের গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণে আমার এই অবস্থা। কলেজ থেকে এখন পর্যন্ত আমি নাম রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসতে পারিনি। কিছুদিন পর পুনরায় পরীক্ষা শুরু হবে। এবার ফরম ফিলাপের তালিকা প্রকাশের পর জানতে পারি এবারও আমার নাম আসে নাই। কলেজের স্যারকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন বোর্ডে সমস্যার কারণে রেজিস্ট্রেশনে আমার নাম আসেনি এ বিষয়ে তাদের কিছু করার নাই। আমি তাদের কলেজের ছাত্র তারপরও তারা বলে তাদের কোন কিছু করার নাই। এই সমস্যা কিভাবে সমাধান হবে তাও কোন পথ আমাদের দেখায় না। আমি দুই বছর ধরে কোন পরীক্ষায় দিতে পারছিনা। এর দায় কে নিবে ?

এ নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ আবুল বাশার বলেন, এ বিষয়ে কলেজের কোন গাফিলতি সুযোগ নাই। আমরা এই সমস্যার সমাধানে যথাযথ চেষ্টা করেছি আরও যদি কোন কিছু করার থাকে অবশ্যই আমরা করবো। কিন্তু তারপরও কেনো এবারের ফরম ফিলাপে তার নাম আসে নাই তা বুঝতে পারছিনা। হয়তো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে দ্বৈত ভর্তির কারণে তার নাম আসেনি। পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি জানিয়ে বোর্ডের একটি আবেদন প্রেরণ করেছি। আশা করছি সমাধান হতে পারে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান বলেন, এ বিষয়টি ইতোমধ্যে আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com