Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

ঝিনাইদহে চাষ হচ্ছে মনিপুরি ইলিশ, অপেক্ষা বাজারজাতের

রিপোর্টারের নাম / ২৭ বার
আপডেট সময় :: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

দিগন্ত ডেক্স : বাজারে প্রায় সময়ই ইলিশ মাছের দাম চড়া, ইচ্ছা থাকলেও সবার কেনার ক্ষমতা নেই। আবার বছরের অধিকাংশ সময় ঠিকমতো ইলিশ পাওয়াও যায় না। জাতীয় এই মাছটির স্বাদ অনেকের কাছেই আজ অচেনা। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে ঝিনাইদহের মহেশপুরে শুরু হয়েছে মনিপুরি ইলিশের চাষ। মাছটি দেখতে মাথার অংশ ইলিশের আর পেছনের অংশ পুটি মাছের মতো, কিন্তু স্বাদ ও গন্ধে পুরোটাই ইলিশ। অনেকে মাছটিকে পেংবা বলেও চেনেন।

মৎস্য চাষীরা বলছেন, এবছরই তারা প্রথম এই মনিপুরি ইলিশের চাষ করেছেন। উপজেলার বাশবাড়িয়া ও পান্তাপাড়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে প্রায় অর্ধশত পুকুরে ১২ লাখ পোনা ছাড়া হয়েছে। ২ মাস পূর্বে পোনা ছেড়ে আশা করছেন ৭ থেকে ৮ মাস বয়স হলেই বাজারে তুলতে পারবেন। মিঠাপানিতে উৎপাদিত এই মাছ বাজারে পর্যাপ্ত আমদানি হলে ইলিশের চাহিদা অনেকটা পুরণ হবে। মৎস্য বিভাগ বলছেন তারাও আশাবাদি এই মাছ চাষে ইলিশের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি চাষীরাও লাভবান হবেন।

সরেজমিনে পুকুরে গিয়ে কথা হয় একাধিক মৎস্যচাষীর। তারা জানান, মহেশপুর উপজেলায় প্রচুর বিল-বাওড় ও পুকুর রয়েছে। এখানে প্রচুর মাছ চাষ হয়। এই মাছ চাষীদের একজন পান্তাপাড়া গ্রামের আলিউজ্জামান প্রথম এই মনিপুরি ইলিশটি তাদের এলাকায় নিয়ে আসেন। এর পূর্বে কেউ এই মাছের চাষ সম্পর্কে বুঝতেন না। তুলসীতলা গ্রামের মৎস্যচাষী আব্দুল আলিম জানান, উপজেলার পান্তাপাড়া ও বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের পান্তাপাড়া, তুলসীতলা ও বাগানমাঠ গ্রামে অর্ধশত পুকুরে এই মনিপুরি মাছের চাষ হয়েছে। অলিমুজ্জামান প্রথম মাছটি এই এলাকায় নিয়ে আসলেও বর্তমানে আয়াত আলী, আত্তাব আলী, সজিব হোসেন, ওসমান গণী, জায়েদ আলী, আব্দুর রহিম, নয়ন মিয়া, সাহাবুদ্দিন আহম্মদ, ইদ্রিস আলী, মনিরুল ইসলাম, মকছেদ আলী, জুলমত আলী, আলিউজ্জামান সহ বেশ কয়েকজন মৎস্যচাষী এই মাছের চাষ করেছেন। প্রথম বছরেই এই পুকুরগুলোতে ১২ লাখ পোনা ছাড়া হয়েছে।

আব্দুল আলিম আরো জানান, তিনি ৪ বিঘা জলাকারের একটি পুকুরে ৬০ হাজার পোনা ছেড়েছেন। প্রতিটি বাচ্চা মাছ ১ টাকা ৫৫ পয়সা করে কিনতে হয়েছে। পুকুরে পোনা ছাড়ার সময় কেজিতে ৫ হাজার বাচ্চা ছিল, যা গত দেড় মাসে অনেকটা বড় হয়েছে। বর্তমানে ৩৫ টি মাছে এক কেজি ওজন হচ্ছে। আব্দুল আরিম জানান, এই মাছ এর বয়স ৭ থেকে ৮ মাস হলে বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। তখন একটি মাছের ওজন হবে ৪ থেকে ৬ শত গ্রাম। তিনি বলেন, অন্য সব মাছের মতোই এর খাবার দিতে হয়, তবে খাবার একটু বেশি প্রয়োজন হয়। এই মাছ দ্রুত বড় হয়, যে কারনে তাদের খাবারও বেশি প্রয়োজন হয়।

মোঃ আলিউজ্জামান জানান, বাংলাদেশে এবারই প্রথম পেংবা বা মনিপুরি ইলিশের চাষ হচ্ছে। তিনি ময়মনসিংহ থেকে এই মাছের পোনা আমদানি করেন। তিনি জানান, মাছটি ভারতের মনিপুরি রাজ্যে চাষ হচ্ছে কয়েক বছর। সেখানে ৮ শত থেকে ৯ শত টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের সংকটে জামাই ষষ্টিতে এই মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকে। সেখান থেকে ময়মনসিংহের একটি হ্যাচারী মালিক ২০১৯ সালে মা মাছ সংগ্রহ করেন। এরপর সেই মাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করে বাচ্চা তৈরী করেছেন। এই বাচ্চা তিনি প্রথম সংগ্রহ করে নিজ এলাকায় নিয়ে আসেন। বর্তমানে তার পুকুরে ২ লাখ পোনা বড় হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তার এই চাষ দেখে তার এলাকার অনেক চাষী এগিয়ে এসছেন। বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ পোনা বড় হচ্ছে তিনটি গ্রামের অর্ধশত পুকুরে।

বাগানমাঠে পুকুর করে মাছ চাষ করছেন আনোয়ার হোসেন নামের এক মৎস্যচাষী জানান, তারা নতুন জাতের এই মাছের চাষ করেছেন। যেখান থেকে পোনা সংগ্রহ করেছেন তারা জানিয়েছেন এই মাছটি ভারতের মনিপুরি রাজ্যে চাষ হচ্ছে। তারা ইলিশের বিকল্প হিসেবে চাষ করে থাকেন। মাছটির মাথা দেখতে ইলিশের আর পেছনের অংশ পুটি মাছের মতো। স্বাদ ও গন্ধ ইলিশের মতো হওয়ায় তারা আশা করছেন বাজারে উঠানোর পর ইলিশের চাহিদা অনেকটা পুরণ হবে। তবে নতুন জাত হওয়ায় বাজার মুল্য কত হবে তা নিয়ে চিন্তিত মৎস্যচাষীরা। তারা আশা করছেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারলেই তারা লাভবান হবে।

ময়মনসিংহ জেলার বন্ধন হ্যাচারীর মালিক কামাল হোসেন জানান, তারা এ বছর পেংবা মাছের পোনা ছেড়েছেন। প্রায় ১৫ লাখ পোনা বিক্রি করেছেন। যার বেশির ভাগই ঝিনাইদহে দেওয়া হয়েছে। তাদের এলাকায় সাামন্য কিছু চাষ হয়েছে। তিনি আরো জানান, মাছটি একেবারেই নতুন জাত। যে কারনে শেষ পর্যন্ত কি হয় তা দেখার অপেক্ষায় আছেন। তবে ভারতে মনিপুরি ইলিশ হিসেবে ব্যপক প্রচলিত রয়েছে মাছটি।

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, মাছটি চাষীরা সংগ্রহ করলেও তারা সার্বক্ষনিক দেখভাল করছেন। কখন কি পরিচর্যা করতে হবে তা দেখিয়ে থাকেন। তিনি আরো বলেন, মাছটি পেংবা বলেও অনেক স্থানে পরিচিত। তবে ভারতের মনিপুরি রাজ্যে এর বেশি চাষ হওয়ায় এটাকে মনিপুরি ইলিশ হিসেবে পরিচিত। মাছটিতে ইলিশের স্বাদ থাকায় ইলিশের চাহিদা অনেকটা পুরণ হবে। বাজারে একটু দাম পেলে চাষীরাও লাভবান হবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com