Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

চরম দুর্ভোগে খুলনার মৃৎশিল্পের কারিগরেরা

রিপোর্টারের নাম / ১০৩ বার
আপডেট সময় :: মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০২১, ৯:১০ পূর্বাহ্ন

দিগন্ত ডেক্স : দিন বদলের সাথে সাথে মাটির তৈরী সামগ্রীর স্থান দখল করেছে সিলভার, এ্যালুমিনিয়াম, প্ল্যাস্টিক ও মেলামাইনের জিনিসপত্র। এসবের ভীরে ক্রমেই হাড়িয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প। প্রাচীনকাল থেকেই মাটির তৈরী বিভিন্ন তৈজসপত্র, খেলনা, মাটির তৈরী ব্যাংকসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ব্যাপক হারে ব্যবহার করত মানুষ। মাটির পাত্রের চাহিদা আর আগের মতো নেই। নেই খেলনাসহ মনোহারী পণ্যেরও চাহিদা। শুধু কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের চাহিদা থাকলেও টিকে থাকার মতো বাজারদর নেই। সেই সঙ্গে মাটিসহ কাঁচামালের দুষ্প্রাপ্যতা পরিস্থিতি আরও কঠিন করে দিয়েছে। তাই বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে আর সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলের মৃৎশিল্পের কারিগরেরা।

মৃৎ পণ্যের জায়গাটা প্লাস্টিক, মেলামাইন ও অ্যালুমিনিয়ামের পণ্য দখল করায় ঐতিহ্যবাহী শিল্পটির আজ এই দশা। সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব রয়েছে বলে জানান কারিগরেরা। স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে এই শিল্পের এখনো টিকে থাকার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন পেশাসংশ্লিষ্টরা। পেশাটির সঙ্গে জড়িত ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর এলাকার জয়দেব পাল বলছেন, মৃৎ পণ্য তৈরিতে বিশেষত দরকার হয় এঁটেল মাটি, বালি, রং, জ্বালানি (কাঠ, শুকনা ঘাস ও খড়)। এখন এসব পণ্যের দাম বেড়েছে আগের চেয়ে কয়েক গুণ। মাটি সব সময় পাওয়া যায় না। দূরদূরান্ত থেকে আনতে খরচ বাড়ে। কিন্তু তৈরি পণ্য বিক্রিকালে যে দাম চাওয়া হয়, সেই দামে কিনতে চান না ক্রেতারা।

এ পেশার কারিগরেরা জানান, চাহিদামতো দামে পণ্য কিনলে লাভটা মোটামুটি হয়। কিন্তু বেশি দরদামে কমতে থাকে লাভের পরিমাণ। লাভটা খুব বেশি ধরে দাম হাঁকা হয় না। তাদের আক্ষেপ, সরকারিভাবে সহযোগিতা তেমনটা পাওয়া যায় না। বছরের বর্ষা মৌসুমে ঘরে হানা দেয় দারিদ্র্য। তখন বেচাকেনা প্রায় বন্ধই থাকে। উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের সুমিত পাল জানান, একসময় মাটির তৈরি জিনিসপত্রের বহুমাত্রিক ব্যবহার ছিল। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হতো। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মাটির পণ্যবোঝাই ‘ঝুড়ি’ নিয়ে গ্রাম ও মহল্লায় গিয়ে বিক্রয় করতেন কুমাররা। ঝুড়িতে থাকত পাতিল, গামলা, দুধের পাত্র, পিঠা তৈরির পণ্য, সড়া, চাড়ি (গরুর খাবার পাত্র), ধান-চাল রাখার ছোট-বড় পাত্র, কড়াই, মাটির ব্যাংক, শিশুদের জন্য রকমারি নকশার পুতুল, খেলনা ও মাটির তৈরি পশুপাখিসহ নানান পণ্য।

জানা যায়, ধান বা খাদ্যশস্য, টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন সেসব পণ্য। সন্ধ্যায় ধানবোঝাই ঝুড়ি নিয়ে ফিরতেন বাড়ি। ওই ধান বিক্রি করে চলত তাঁদের সংসার খরচ। অনেকেই আবার বাপ-দাদার সেই পুরোনো পেশা ছেড়ে নতুন পেশা বেছে নিয়েছেন। সেই দিন এখন সুদূর অতীত। তবু পেশাসংশ্লিষ্টদের আশা, হয়তো আবার কদর বাড়বে মাটির পণ্যের। তখন হয়তো পরিবারে ফিরবে সচ্ছলতা। এখন মানবেতর দিন কাটালেও সেই সুদিনের অপেক্ষায় আজও সকাল-সন্ধ্যা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তাঁরা। মৃৎশিল্পিদের অভিযোগ, তাদের প্রতি কেউ নজর রাখে না। যদি সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা তাদের সহজ শর্তে ঋণ দিত ও তাদের উৎপাদিত দ্রব্যাদি ব্যবহারের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করত তাহলে তাদের পেশার প্রসার ঘটত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com