Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

করোনা ইস্যুতে দুর্গাপুরে বাড়ছে শিশুশ্রম

রিপোর্টারের নাম / ১৫৬ বার
আপডেট সময় :: শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১, ৯:৩০ পূর্বাহ্ন

তোবারক হোসেন খোকন, দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)থেকে : কারো হাতে কিছু শব্জি কেউ বা সামান্য ফল আবার কেউ বা গ্রাম থেকে দুধ কিনে শহরে এনে বিক্রি করতে দেখা গেছে। আবার কেই বা একটু বাড়তি আয়ের আশায় রিক্সা নিয়ে বেরোতে দেখা গেছে অনেককেই। শুক্রবার এমনই দৃশ্য দেখাগেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের অলিগলিতে।

এনিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চড়মোক্তারপাড়া, মুজিবনগর আবাসন থেকে বর্তমান করোনা ইস্যুতে সরকার ঘোষিত লকডাউন চলাকালীন সময়ে ১০ থেকে ১২ বয়সের বিভিন্ন শিশু-কিশোর দিনে ২শত থেকে ৩শত টাকা আয় করার কারনে রাস্তায় নেমেছে। পুলিশি ধর-পাকরের কারনে শঙ্কিত থাকছে তারা। লকডাউন এর কারনে স্কুল বন্ধ থাকায় অনেকেই পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে এভাবেই শ্রমিকের কাজে নেমেছে। তাদের কারও কারও কথায়, “সংসারে টানাটানি চলছে। কী আর করব।”

এবারে মাধ্যমিক পাশ করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল রবিউল মিয়া। ছয় মাসে নতুন করে পড়াশোনা তার কিছুই এগোয়নি। বাড়ির কাজকর্ম করে সময় কাটিয়ে দিচ্ছে সে। তার বাবার কথায়, “আমি কাঠমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাই। সামান্য কিছু কৃষি জমি থাকলেও খুব কষ্টে চলতে হয়। ছেলেকে তার মধ্যেও পড়িয়েছি। করোনায় আমাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে, কিছুই করার নেই। অপরদিকে নবম শ্রেণির পড়াশোনার পাট চুকিয়ে দিয়েছে শাকিল। তাঁর বাবা রাজমিস্ত্রির কাজের সঙ্গে যুক্ত। সে বলে, আমি পৌরশহরের একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াশুনা করছি, “কী করব? বাড়িতে খুব টাকার প্রয়োজন, তাই বাধ্য হয়ে রিক্সা চালাতে হচ্ছে।

এক অভিভাবক জানান, তাঁর দুই ছেলের মধ্যে বড়ছেলে অষ্টম শ্রেণিতেই পড়া শেষ করে নবম শ্রেণিতে ভর্তির পরই শুরু হলো করোনা, এ যেন আমার সংসারের সব কিছু কেড়ে নিলো। আর একজন নবম শ্রেণিতে উঠে পড়া ছেড়ে দিয়েছে। তাঁর কথায়, আমরা নি¤œ আয়ের মানুষ, করোনার কারনে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাধুপাড়ার বউ বাজারে সামান্য সব্জি বিক্রি করেই কোন রকম সংসার চালাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম কে বলেন, শিশুরা যাতে ঝুকিপুর্ন কাজ করানো রাস্ট্রীয় অপরাধ। এনিয়ে আমাদের তদারকি রয়েছে। কোভিড এর কারনে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় চারদিকে শিশু শ্রম কিছুটা বেড়ে গেছে। উপজেলা শিশু কল্যান বোর্ডের মাধ্যমে করোনা পরবর্তি সময়ে সরকারিভাবে তাদের পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছি আমরা।

পৌর মেয়র আলা উদ্দিন আলাল বলেন, শিশুদের দিয়ে ভারী কাজ করানো এটা রাস্ট্রীয় অপরাধ। করোনা পরবর্তি সময়ে পৌর উন্নয়ন তহবিল থেকে শিশুদের কল্যানে শিশুবান্ধব প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। দুর্গাপুর পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভা হিসেবে রুপ দিতে আবাসন এলাকায় বসবাসরত বেকার কিশোরদের বাছাই করে, হাতে কলমে কর্মমুখী কাজ শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, এ কাজ বাস্তবায়নে আমি সকলের সহযোগিতা চাই, সকলকে সাথে নিয়ে উন্নয়নমুলক কাজ করতে চাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com