Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

করোনায় আতঙ্কিত হবেন না, সচেতন থাকুন

রিপোর্টারের নাম / ১০২ বার
আপডেট সময় :: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০

স্নেহাশীষ চক্রবর্তী : করোনা ইস্যুতে সারা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগে এখন পর‌্যন্ত বিশেষজ্ঞগন যা বলেন তা হলো সচেতন থাকা। সরকারী নির্দেশ মেনে চলা। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যারা আক্রান্তের খরব শুনে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তারা বিপদমুক্ত আছেন। এশিয়ার মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সবচেয়ে ঘনবসতিপুর্ন এলাকা। অসচেতনতার কারনে এই দেশগুলোতে কি হয় বলা যায় না। সেই ক্ষেত্রে সকলকেই সচেতনতার লক্ষে ঘরে খাকার অনুরোধ জানাই। আপনি যদি আক্রান্ত হয়েও থাকেন তবু ভয়ের কিছু নাই। শুধু ৫দিন গরম পানি পান করা, গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়া, বদ্ধ ঘর মানে বদ্ধ ঘর এ অবস্থান করা। কারো সংস্পর্শে না যাওয়া, নিজ নিজ ব্যবহৃত জিনিষ অন্যকে ব্যবহার করতে না দেয়া তবেই ঐ ভাইরাস সর্বোচ্চ ৫দিনে আপনার দেহ থেকে মৃত্যুবরণ করবেই। আমাদের দেশে যারা মৃত্যুবরণ করেছে অনেকেই ভয়ে।বিষধর সাপের চেয়ে মানবদেহে বেশী আছে কিন্তু সাপের কামড়ে মানুষ মরে যায় হার্ড এটাক করে। আসুন সচেতন হই নিচে এর চেয়েও মহা-বিপদে কি ঘটেছে জেনে নেই –

৪৩০ খ্রিস্ট্রপূর্বাব্দে গ্রীক ও স্পার্টানদের মধ্যে যুদ্ধের মাঝেই এসে হাজির হয় ‘প্লেগ অফ এথেন্স’ নামক এক মহামারী রোগ । পৃথিবীর প্রথম মহামারী রোগ আসে মানব নিধন করতে । হাজার হাজার গ্রীক মারা পড়েন এই ‘প্লেগ’ মহামারী রোগে । গ্রীক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডসের রচনাংশ ‘হিস্ট্রি অব দ্য পেলোপনেসিয়ান ওয়্যার’ থেকে এই রোগের বিষয় জানা যায়, যিনি নিজের চোখে এই রোগ দেখেছিলেন । যদিও অপর আরেকদল ইতিহাসবিদরা বলেছিলেন এই মহামারী ছিল টাইফয়েড, টাইফাস জ্বর, গুটিবসন্ত কিংবা আনথ্রাক্স- কে কেন্দ্র করে । সে যাই হোক, ত্বকের সাথে ত্বকের সংস্পর্শে ও বাতাসে এই রোগ ছড়িয়েছিল ও এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ মারা যায় যেটি সেই সময়কালে গ্রিসের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ।

৫৪১ খ্রিস্টাব্দে রোমান সাম্রাজ্যের বাইজান্টাইনের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলে (বর্তমান ইস্তাম্বুল) ইঁদুর ও খাদ্যশস্যের মাধ্যম দিয়ে ছড়িয়ে পরে ‘প্লেগ’ নামক মহামারী । প্রধানত মিশর ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে এই রোগ সংবাহিত হয়েছিল ইউরোপে । এই রোগে মহামারীর চূড়ান্ত পর্যায়ে দিনে প্রায় ৫০০০ ( পাঁচ হাজার ) মানুষ মারা যেত । প্রায় ৫০ বছর টিকে থাকা এই মহামারী আড়াই কোটি থেকে দশ কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় ।

১৩৩৪ সালে ‘গ্রেট প্লেগ অফ লন্ডন’ ছড়িয়ে পরে চীন থেকে । ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই ‘প্লেগ’ ছড়িয়ে পরে । ইতালির ফ্লোরেন্স শহরেই মারা যায় প্রায় ৯০,০০০ ( নব্বই হাজার ) মানুষ । পুরো ইউরোপ জুড়ে মারা পড়েন আড়াই কোটি মানুষ ।

১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দের ইউরোপের ‘ব্ল্যাক ডেথ’এ যাবত কালের মধ্যে সব থেকে বড়ো মহামারী । কৃষ্ণ সাগর অঞ্চল দিয়ে তখন প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের জাহাজে সামগ্রী আদান-প্রদান চলত । জাহাজে চড়ে বসত হাজার হাজার ইঁদুর । অনেক ইতিহাসবিদের মতে এটি ‘প্লেগ মহামারী’, আবার কোনো কোনো ইতিহাসবিদ এই রোগের মূল কারন বলেন ‘ইবোলা রোগ’ কে । সে যাই হোক, মহামারীর আকারে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল, আর ইতিহাসবিদদের মতে ইউরোপের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এই মহামারীতে । এটি প্রায় ২০০ বছর স্থায়ী ছিল

১৫১৯ সালে মেক্সিকোতে স্মল পক্স মহামারীর আকার নেয়, সেখানে এই মহামারীতে দুই বছরে প্রাণ হারান প্রায় আশি লক্ষ মানুষ ।

১৬৩৩ সালে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে স্মল পক্স মহামারীতে মারা যান দুই কোটি মানুষ । এই মহামারী সম্ভবত বাহিত হয়েছিল ফ্রান্স, ব্রিটেন, ও ডাচবাসীদের মাধ্যমে বলে মনে করা হয় ।

১৭৯৩ সালে ‘ইয়োলো ফিভার’ আমেরিকার ফিলাডেলফিয়াতে মহামারীর আকার নেয়, আর এতে মারা পড়েন প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ ।১৮৬০ সালে চিনে ‘প্লেগ প্যান্ডেমিক’ কেড়ে নেয় ১ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষের প্রাণ । এরপর ১৮৯০ সালে প্লেগের প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়ে যায়, তাই তারপর থেকে প্লেগে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে । যদিও এই রোগ সে সময় চীন, ভারত, আফ্রিকা, ইকুয়েডর, যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি দেশের মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয় সব থেকে বেশি ।

১৯১০ সালে চিনে প্লেগে প্রায় ষাট হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন আবার ।

১৯১৬ সালে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে পোলিও রোগ মহামারীর আকার নেয় ও নয় হাজার আক্রান্ত মানুষের মধ্যে প্রায় ছয় হাজার মানুষ প্রাণ হারান । ১৯৫০ সালে জোনাস সাল্ক পোলিও রোগের প্রতিষেধক ওষুধ আবিষ্কার করার পরে ক্রমশ এই রোগ কমছে ।

১৯১৯ সালে ‘প্যান্ডেমিক ইনফ্লুয়েঞ্জা’-তে মারা যান সারা বিশ্বে প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ ।

১৯৭০ সালে ‘স্মল পক্স’-এ ভারতে মারা যান প্রায় কুড়ি হাজারের বেশি মানুষ । যদিও ১৭৯৬ সালে এডওয়ার্ড জেনার স্মল পক্সের টিকা আবিষ্কার করেছিলেন বলেই হয়তো মৃত্যু মিছিল কম হয়েছিল ।

১৯৮৪ সালে এইচ.আই.ভি বা এইডস রোগ সারা পৃথিবীতে ছড়াতে শুরু করে । এখনো এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ।

২০০৯ ‘সোয়াইন ফ্লু’ প্যান্ডেমিক আকারে ছড়িয়ে পড়ে । এখনো পর্যন্ত এই রোগে মারা গেছেন ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষ ।

২০১৪ সালে ইবোলা রোগ মহামারী আকার নেয় পশ্চিম আফ্রিকায় । এতে মারা যান প্রায় ১১,৩০০ মানুষ ।

২০২০ – কোরোনা ভাইরাস যা এখনো চলছে আমাদের কাছে এক মৃত্যুভীতি । এখনো এই রোগে সাড়া বিশ্বে প্রায় ৩০ হাজার এর বেশী মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আক্রান্ত হযেছেন প্রায় ১০ লক্ষ । দেখুন, পাঠক ও সুধীবৃন্দ কত শতক ধরে আমরা কিভাবে বিভিন্ন রোগের সাথে লড়াই করে আসছি । এই দুর্দিন ঠিক কেটে যাবে । তবে আতঙ্ক ও গুজব ছড়াবেন না । সকলে সচেতন থাকুন, সতর্ক থাকুন । কোনো ভগবান বা আল্লাহ বা গড আমাদেরকে রক্ষা করবেন, সুন্দর পৃথিবী আবার জেগে উঠবে এই প্রত্যাশা করছি।

আমরা বেঁচে আছি আমাদের জীবনের লড়াই করতে করতেই, অসুখে-বিসুখে পাশে থেকেছেন শুধু ডাক্তার ও সেবাকর্মীরাই, তাদের উপর আস্থা রাখুন, সরকারী নিয়ম মেনে সবাই ঘরে থাকুন। অন্যদেরকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিন। চলুন দেশকে ভালোবেসে মহান সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রাখুন। সকলে সুন্দরভাবে বাঁচার আশা রাখুন । সবাই ভালো খাকবেন। তথ্যসূত্র- ডাঃ হিমেল ঘোষ।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com