Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

করোনার প্রথম টিকা গ্রহণকারী জেনিফার হ্যালার

রিপোর্টারের নাম / ১০১ বার
আপডেট সময় :: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২০

দিগন্ত নিউজ ডেক্স : বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিষেধকের পরীক্ষামূলক প্রথম ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে মার্কিন নাগরিক জেনিফার হ্যালার নামে এক নারীর দেহে। সোমবার ৩৪ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী জেনিফার প্রথম এই টিকা নেন। তিনি সেখানকার একটি স্টার্টআপের অপারেশনস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। ১৬ মার্চ থেকে মারণ ভাইরাসের ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। হ্যালারই বিশ্বে প্রথম, যার ওপর পরীক্ষামূলকভাবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হল।

সিয়াটলের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা একটি কমিউনিটির সদস্যরা সবার আগে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলকভাবে গ্রহণের জন্য নির্বাচিত হন। সেই ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রথম স্বেচ্ছাসেবক হলেন জেনিফার হ্যালার। মাইক্রোসফটের প্রয়াত সহপ্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেনের স্ট্রোটোলঞ্চ স্পেস ভেঞ্চারে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করা সিয়াটলভিত্তিক স্টার্টআপ কোম্পানি অটানলিতে বাড়িতে বসে কাজ করছেন তিনি।

সিয়াটলের কায়সার পার্মানেন্তে ওয়াশিংটন রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে প্রথম ইনজেকশনের মাধ্যমে টিকা নেন হলার। এরপর নিজের বাড়িতেই আছেন। সেখান থেকে তিনি বলেছেন, ‘টীকা নেওয়ার পর আমি খুব ভালো আছি। আমার হাতে কোনো যন্ত্রণা হয়নি। এটি অন্যান্য ফ্লু-র ভ্যাকসিনের চেয়ে অনেক ভালো।’

করোনাভাইরাসের টিকায় পরীক্ষামূলক প্রয়োগে হ্যালারের অংশগ্রহণকে সমর্থন করেছেন অটানলির প্রধান নির্বাহী স্কট ফেরিস। তিনি বলেছেন, ‘আমি তার এই ভ্যাকসিন নেওয়ায় গর্বিত। অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে হ্যালারের কাজ হল দলের মনোবল বজায় রাখা। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সবাই ঘরে বসে কাজ করায় সবার মনোবল ধরে রাখা আরও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। আমরা এখন ভার্চ্যুয়াল হ্যাপি আওয়ার পালন করব।’

করোনা–ভ্যাকসিন নেওয়ার তালিকায় থাকা দ্বিতীয় স্বেচ্ছাসেবী মাইক্রোসফটের নেটওয়ার্কের কর্মী নীল ব্রাউনিংয়ের মতে, নাগরিক মূল্যবোধের জায়গা থেকেই তিনি এ পরীক্ষা করছেন। তার সন্তানেরা এর জন্য গর্বিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক মা-বাবা চান তার সন্তানরা তাদের দেখাশোনা করুক।

মর্ডানাস ‘এমআরএনএ-১২৭৩’ নামের ভ্যাকসিনটিতে সার্স-সিওভি-২ করোনভাইরাস থেকে মেসেঞ্জার আরএনএর নিষ্ক্রিয় খণ্ড ব্যবহার করা হয়। এ পরীক্ষার প্রথম দফার লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের শরীরের জন্য নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করা। গবেষকেরা দাবি করেন, এতে ভাইরাসের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় সংক্রমণের ঝুঁকি নেই। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে কায়সার পারমানেন্তের গবেষক লিসা জ্যাকসনের নেতৃত্বে একদল গবেষক এ ভ্যাকসিন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কতখানি কার্যকর, তা পরীক্ষা করে দেখবেন।

লাইভ সায়েন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনটি নিরাপদ ও বিশ্বব্যাপী ব্যবহার–উপযোগী হতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি পর্যায়ক্রমিক ধাপ পেরোতে হবে। প্রথম পর্ব ভালোভাবে পার হলে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে তা সাধারণের ব্যবহারের উপযোগী হতে পারে। প্রথম ধাপ শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে বেশিসংখ্যক মানুষের ওপর বেশি সময় ধরে এ ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হবে। তৃতীয় ধাপে ৩০০ থেকে ৩ হাজার মানুষের ওপর এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে এ ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হবে। এভাবে যদি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন সব ধাপে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়, তবে তা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উপযোগী ঘোষণা করা হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com