Logo
নোটিশ ::
Wellcome to our website...

করোনার পরিস্থিতি চললে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ : প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম / ৫৭ বার
আপডেট সময় :: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০

দিগন্ত ডেক্স : করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যখন করোনার প্রকোপ থাকবে না, তখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে।

আজ সোমবার গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এখন স্কুল–কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলব না। অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল–কলেজ সবই বন্ধ থাকবে, যদি করোনাভাইরাস অব্যাহত থাকে। যখন এটা থাকবে না, তখনই খুলব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু কিছু জীবনযাপন আমাদের আস্তে আস্তে উন্মুক্ত করতে হবে। সেখানেও সবাই নিজেকে সুরক্ষিত রেখেই কাজ করবে। মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা এবং জীবিকার পথ উন্মুক্ত রাখার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেসব জায়গায় করোনাভাইরাস বেশি দেখা দেয়নি, ধীরে ধীরে সেই জায়গাগুলো শিথিল করে দিচ্ছি। যাতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন অব্যাহত থাকে।’

শেরপুর জেলার ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন ভিক্ষুক ভিক্ষা করে ১০ হাজার টাকা জমা করেছিল নিজের ঘর ঠিক করার জন্য। ছেঁড়া একটি পাঞ্জাবি গায়ে। ঘরে খাবারও ঠিকমতো নেই। কিন্তু তারপরও সেই মানুষ ওই ১০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন করোনাভাইরাসে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের সাহায্যের জন্য। আমি মনে করি, সারা বিশ্বে এটা মহৎ দৃষ্টান্ত তিনি সৃষ্টি করেছেন। এত বড় মানবিক গুণ আমাদের অনেক বিত্তশালীর মাঝেও দেখা যায় না। কিন্তু একজন নিঃস্ব মানুষ, যাঁর কাছে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই টাকা দিয়ে তিনি অনেক কিছু করতে পারত। কোনো চিন্তা সে করেনি। সেটা তিনি দান করেছেন। এই যে একটা মহৎ উদারতা দেখালেন, বাংলাদেশের মানুষের মাঝে এখনো এই মানবিক বোধটা আছে। কিন্তু সেটা আমরা পাই, যাঁরা নিঃস্ব তাঁদের কাছে। অনেক সময় দেখি, অনেক বিত্তশালী অনেক হা-হুতাশ করেই বেড়ান। কিন্তু তাঁদের নাই নাই অভ্যাসটা যায় না। তাঁদের চাই চাই ভাবটা সব সময় থেকে যায়।’

প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় নেতাদের ধন্যবাদ জানান নির্দেশনা মেনে চলার জন্য। তিনি বলেন, রমজান মাসে সবাইকে বেশি করে দোয়া করতে হবে, যাতে এই দুর্যোগ থেকে মানুষ মুক্তি পায়।

যাঁরা হাত পেতে চাইতে পারেন না, তাঁদের আলাদা করে তালিকা করতে হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের জন্যও কার্ড করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সামনে ঈদ রেখে আরও এক দফা ত্রাণসহায়তা দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন খাতে প্রণোদনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যাঁরা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেছেন, কিন্তু এই ভাইরাসের কারণে এই সময়ে ঋণের সুদ বেড়ে গেছে বলে চিন্তা করবেন না। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন, যাতে সুদ স্থগিত থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে কৃষির ওপর গুরত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। ধান কাটার পর সেই জমিও কাজে লাগানোর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দুধসহ পোলট্রি ফেলে না দিয়ে তা অল্প টাকায় বিক্রি ও মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব স্তব্ধ। এই ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। এটা অত্যন্ত সংক্রামক একটা ব্যাধি। কার যে কখন হবে, বোঝা যায় না। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। যারা ভাইরাস মোকাবিলায় কাজ করছে, তাদের সহযোগিতা করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com